এই ৭টি ভুলে আপনার চেহারা নষ্ট হচ্ছে | 7 Habits Killing Your Face Glow

সুস্থ থাকুন সুস্থ রাখুন www.youtube.com

সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

এই ভিডিওটিতে এমন সাতটি অভ্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা অজান্তেই আমাদের মুখের সৌন্দর্য কমিয়ে দেয় এবং বয়স্ক দেখায়। এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে এবং একটি সঠিক জীবনযাত্রা অনুসরণ করে, চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব।

  • অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ত্বকের কোলাজেন ভেঙে দেয়।
  • মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া মুখের হাড়ের গঠন পরিবর্তন করে।
  • অপর্যাপ্ত ঘুম টেস্টোস্টেরন উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
  • মুখে হাত দেওয়া ত্বকে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়।
  • গরম জল দিয়ে মুখ ধোয়া ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে।
  • সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে না।
  • কম জল পান করা ত্বককে ডিহাইড্রেটেড করে তোলে।

ভূমিকা (কেন আপনাকে বয়স্ক দেখাচ্ছে?)

ভিডিওর শুরুতে প্রশ্ন করা হয়, শেষ কবে আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসী অনুভব করেছেন? আজকাল অনেকেই সকালে আয়নায় নিজেদের বিধ্বস্ত চেহারা দেখে হতাশ হন। বন্ধুদের চকচকে ত্বক দেখে মনে হয় সৃষ্টিকর্তা বুঝি তাদের প্রতি বেশি সদয়। কিন্তু আসল সমস্যা জেনেটিক্স বা ভাগ্যের নয়, বরং সারাদিনের কিছু ছোট ছোট অভ্যাসের কারণে এমনটা হয়। এই ভিডিওতে ডার্মাটোলজি এবং মেডিকেল সায়েন্স থেকে খুঁজে বের করা সাতটি অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে, যা ধীরে ধীরে মুখের সৌন্দর্য কমিয়ে দেয়।

অভ্যাস ১: দ্য সুগার ট্র্যাপ (চিনির বিপদ)

বাঙালি সংস্কৃতিতে চিনি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাজের ফাঁকে চা, লাঞ্চের পর মিষ্টি বা বন্ধুদের সাথে কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু অতিরিক্ত চিনি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। মেডিকেল সাইন্সে একে গ্লাইকেশন বলা হয়। অতিরিক্ত চিনি বা কার্বোহাইড্রেট রক্তের সাথে মিশে কোলাজেন এবং ইলাস্টিনের উপর হামলা করে, যা ত্বককে টানটান রাখে। চিনি কোলাজেন ভেঙে দেওয়ার কারণে কপালে ভাঁজ পড়ে, ত্বক ঝুলে যায় এবং চোখের কোণে রিংকেলস দেখা দেয়। একে সুগার ফেস বলা হয়। ধূমপান না করেও শুধু অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার কারণে দশ বছর বেশি বয়স্ক দেখাতে পারে। তাই, সাত দিনের জন্য চিনি খাওয়া বন্ধ করার চ্যালেঞ্জ নিতে বলা হয়েছে।

অভ্যাস ২: মাউথ ব্রিদিং (জ-লাইন নষ্টের কারণ)

দ্বিতীয় অভ্যাসটি হলো মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া। মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সময় বা গেম খেলার সময় অজান্তেই মুখ ঝুলে পড়ে এবং মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদী মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে চিবুক ভেতরের দিকে ঢুকে যায়, জ-লাইন গায়েব হয়ে যায়, গলার নিচে চর্বি জমে এবং মুখ সবসময় ক্লান্ত দেখায়। মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের অভাব হয়, ফলে অক্সিজেন কমে যায় এবং ত্বক কালচে হয়ে যায়। তাই, যখনই মনে পড়বে মুখ বন্ধ করে নাক দিয়ে গভীরভাবে শ্বাস নিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, মিউইং নামক একটি কৌশল অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে জিভকে সবসময় মুখের উপরের তালুর সাথে চ্যাপ্টা করে লাগিয়ে রাখতে হয়।

অভ্যাস ৩: স্লিপ অ্যান্ড টেস্টোস্টেরন (ঘুমের সাথে প্রতারণা)

পুরুষরা প্রায়ই কম ঘুমের কথা গর্ব করে বলে থাকেন, কিন্তু শরীর এটাকে জরুরি অবস্থা হিসেবে নেয়। রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত সময়টা শরীরের জন্য গোল্ডেন রিপেয়ার টাইম। এই সময় শরীর হিউম্যান গ্রোথ হরমোন (এইচজিএইচ) এবং টেস্টোস্টেরন তৈরি করে। টেস্টোস্টেরন ছেলেদের ফেস গ্লো করে এবং পুরুষালী ভাব ধরে রাখে। রাত জেগে থাকলে এই হরমোন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। কর্টিসল কোলাজেন ভেঙে দেয়, ত্বকে অতিরিক্ত তেল তৈরি হয়, পিম্পেল হয় এবং চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল পড়ে। তাই, ঘুমোতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন টাইম বন্ধ করতে এবং সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভ্যাস ৪: টাচিং ইওর ফেস (হাত যখন শত্রু)

গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষ গড়ে ১৬ থেকে ২৩ বার নিজের মুখে হাত দেয়। হাতের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ত্বকের ছিদ্রের ভেতরে প্রবেশ করে, যা ইনফ্লামেশন তৈরি করে এবং ব্রণ হয়। ব্রণ শুকিয়ে গেলেও দাগ রেখে যায়। তাই, মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে এবং মুখ মুছতে হলে পরিষ্কার রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, সপ্তাহে অন্তত একবার বালিশের কভার পরিবর্তন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভ্যাস ৫: হট ওয়াটার মিসটেক (গরম জলে মুখ ধোয়া)

গরম জল দিয়ে মুখ ধোয়া ত্বকের জন্য আত্মহত্যার সমান। ত্বকের উপরে একটি পাতলা তেলের আস্তরণ থাকে, যা ত্বককে বাইরের ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে এবং ময়েশ্চার ধরে রাখে। গরম জল এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরকে ধুয়ে ফেলে, যার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত তেল উৎপন্ন হয়। তাই, সবসময় সাধারণ তাপমাত্রার জল দিয়ে মুখ ধুতে এবং শীতকালে হালকা কুসুম গরম জল ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

অভ্যাস ৬: ইগনোরিং দ্য সান (সানস্ক্রিন না মাখা)

অনেকেই মনে করেন বেশিক্ষণ রোদে না থাকলে বা গায়ের রং শ্যামলা হলে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু সূর্যের ক্ষতিকর ইউভিএ রশ্মি মেঘ ভেদ করে এবং অফিসের ভেতরেও আসতে পারে। এই রশ্মি ত্বকের গভীরে গিয়ে ডিএনএ ড্যামেজ করে, যাকে ফটো এজিং বলা হয়। এর কারণে মুখে মেচেতা, পিগমেন্টেশন এবং চামড়া কুঁচকে যায়। তাই, ফর্সা বা শ্যামলা যাই হোন না কেন, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। সকালে মুখ ধোয়ার পর এসপিএফ ৩০ বা এসপিএফ ৫০ সানস্ক্রিন মাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভ্যাস ৭: ক্রনিক ডিহাইড্রেশন (জল কম খাওয়া)

শরীরে জলের অভাব হলে ত্বক কিসমিসের মতো কুঁচকে যায়। পর্যাপ্ত জল পান না করলে ত্বক ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়, চোখের নিচে গর্ত হয়, ঠোঁট ফাটে এবং চেহারা নিষ্প্রাণ দেখায়। এছাড়াও, জল আমাদের শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়। তাই, ইউরিনের রং পরীক্ষা করে শরীরে জলের অভাব আছে কিনা, তা জানতে বলা হয়েছে এবং সারাদিন অল্প অল্প করে জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বোনাস টিপ (সকালের স্পেশাল রুটিন)

এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করার পাশাপাশি, সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে মাত্র পাঁচ মিনিটের একটি বিশেষ রুটিন অনুসরণ করলে তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব। এই এন্টি এজিং মর্নিং রুটিন নিয়ে একটি বিস্তারিত ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ঘুম থেকে ওঠার পর ঠিক কী করলে ত্বক আবার জীবন্ত হয়ে উঠবে, তা দেখানো হয়েছে।

Summarize any YouTube video in seconds

Get summaries like this one for any video, in your language, with the free Summ app.

Download on the Apple Store
Get it on Google Play

Transcript

YouTube Transcript Generator

0:00 এই প্রশ্নটা আপনি নিজেকে করুন। শেষ কবে আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে কনফিডেন্ট ফিল করেছেন? নাকি প্রত্যেকদিন সকালে ব্রাশ করার সময় বা অফিস থেকে ফিরে আয়নায় নিজেকে দেখে মনে হয় আরে আমাকে এমন বিধ্বস্ত কেন লাগছে? আমার মুখের সেই জেল্লা কোথায় গেল? আমার বয়স মাত্র 30 বা 35। কিন্তু আয়নায় আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে 40 বছরের কোন ক্লান্ত মানুষ। চোখের নিচে কালি, চামড়া কুচকে যাওয়া আর মুখের সেই সতেজ ভাবটা পুরোপুরি গায়েব। অথচ আপনারই কোন বন্ধু যে কিনা কোন দামি ফেস ওয়াশ মাখে না জিমে গিয়ে ঘামও ঝরায় না তার চেহারা সবসময় চকচক করছে হিংসা হয় তাই না মনে হয় সৃষ্টিকর্তা কি আমাকেই কম সুন্দর বানিয়েছে না ভাই ভুল ভাবছেন সমস্যাটা আপনার জেনেটিক্সে নয় সমস্যাটা আপনার কপালেও নয় সমস্যাটা লুকিয়ে আছে আপনার

0:46 সারাদিনের এমন কিছু ছোট ছোট অভ্যাসে যেগুলো আপনি নিজের অজান্তেই করে চলেছেন। আর এগুলোই হলো সাইলেন্ট কিলার। হয়তো এখনই এই ভিডিওটা দেখার সময়ও আপনি এমন একটা ভুল করছেন যা আপনার জলা আইন নষ্ট করে দিচ্ছে। আজকের এই ভিডিওতে আমি মেডিকেল সাইন্স এবং ডার্মাটোলজির গভীর থেকে খুঁজে বের করা এমন সাতটি ভয়ঙ্কর অভ্যাসের কথা বলব যা তিলতিল করে আপনার ফেস ভ্যালু কমিয়ে দিচ্ছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি পাঁচ নম্বর পয়েন্টটা শোনার পর আপনি আটকে উঠবেন। কারণ আমরা 99 শতাংশ পুরুষ এই ভুলটা প্রত্যেকদিন করি এবং ভিডিওর শেষে যারা সত্যিই নিজের চেহারায় একটা ড্রাস্টিক পরিবর্তন আনতে চান তাদের জন্য থাকছে একটা লাইফ চেঞ্জিং বোনাস টিপ। তাই ভিডিওটা স্কিপ না করে একদম শেষ অব্দি দেখতে থাকুন। কারণ আপনার ফেস আপনার কনফিডেন্স। চলুন আসল কালপ্পিট গুলোকে চিনে

1:33 নেওয়া যাক। প্রথমেই যে অভ্যাসটা নিয়ে কথা বলবো সেটা আমাদের বাঙালি কালচারের সাথে মিশে আছে। সেটা হলো চিনি। অফিসে কাজের ফাঁকে পোল্টুর চায়ের দোকানে এক কাপ চা, লাঞ্চের পর একটু মিষ্টি বা বন্ধুদের আড্ডায় এক বোতল কোল্ড ড্রিংকস। আপনি ভাবছেন, আরে বস সারাদিন খাটাখাটনি করি। একটু মিষ্টি খেলে মুখের চামড়া এমন কি হবে? এখানেই আপনি ভুল ভাবছেন। মেডিকেল সাইন্সে একটা ভয়ঙ্কর টার্ম আছে যার নাম হলো গ্লাইকেশন। ব্যাপারটা একটু সহজ করে বুঝিয়ে বলছি। ধরুন আপনি একটা আপেল কেটে টেবিলে রেখে দিলেন। কিছুক্ষণ পর কি হয়? আপেলটা লালচে হয়ে যায়, কুচকে যায়। কি তাইতো? আমাদের শরীরের ভেতরেও ঠিক একই ঘটনা ঘটছে। যখন আপনি অতিরিক্ত চিনি বা কার্বোহাইড্রেট খান তখন সেই সুগার মলিকিউলগুলো আপনার রক্তে মিশে গিয়ে কোলাজেন এবং ইলাস্টিনের উপর

2:19 হামলা করে। কোলাজেন হলো আমাদের ত্বকের সেই প্রোটিন যা আমাদের তবককে টানটান রাখে। চিনি এই কোলাজেনকে ভেঙে দেয় যার ফলে আপনার কপালে ভাত চলে আসে। আপনার স্কিন ঝুলে পড়ে এবং আপনার চোখের কোণের রিংকেলস দেখা দেয়। ডার্মাটোলজিস্টরা এর নাম দিয়েছে সুগার ফেস। বিশ্বাস করুন আপনি যদি ধূমপান নাও করেন শুধু অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার কারণেই আপনাকে 10 বছর বয়স্ক দেখাচ্ছে। আগামী সাত দিনের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ নিন। আমি এটাকে বলি নো সুগার চ্যালেঞ্জ। চায়ে চিনি খাওয়া কমপ্লিটলি বন্ধ করুন। মিষ্টি বা প্রসেস ফুড ছোবেন না। যখনই মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করবে এক টুকরো খেজুর বা একটু গুড় খান। মাত্র এক সপ্তাহ এটা করে দেখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় নিজেকে দেখবেন আপনি নিজেই চমকে যাবেন। ত্বকের সেই কালচে ভাব কেটে গিয়ে ভেতর থেকে একটা গ্লো বেরচ্ছে।

3:05 দ্বিতীয় অভ্যাসটা একটু অদ্ভুত। কিন্তু এটা আপনার স্কিন নয়। সরাসরি আপনার মুখের হাড়ের গঠন বা স্ট্রাকচার বদলে দেয়। আর এটা হলো মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়া। একটু খেয়াল করুন তো। এখন ঠিক এই মুহূর্তে আপনার ঠোঁট কি বন্ধ আছে নাকি হালকা ফাঁকা হয়ে আছে? আপনি কি নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন না মুখ দিয়ে? আমরা যখন খুব মনোযোগ দিয়ে কোন কাজ করি যেমন ল্যাপটপে টাইপ করি বা গেম খেলি তখন অজান্তেই আমাদের মুখটা ঝুলে পড়ে এবং আমরা মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়া শুরু করি। একে বলা হয় মাউথ ব্রিদিং। কেন এটা বিপদজনক জানেন? কারণ বিজ্ঞান বলছে যারা দীর্ঘমেয়াদী মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেয় তাদের রিসিডিং চিন বা চিবুক ভেতরে ঢুকে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। আপনার জল লাইন গায়েব হয়ে যায়। গলার নিচে চর্বি বা ডবল চিন জমা হয়। এমনকি আপনি রোগা হলেও মুখের নিচের অংশ ঝুলে পড়ে এবং আপনাকে সবসময় ক্লান্ত বা

3:52 বোকা দেখায়। শুধু তাই নয় মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিলে শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের অভাব হয়। ফলে অক্সিজেন কমে যায়। আর রক্তে অক্সিজেন কম থাকা মানেই ত্বক কালচে এবং নিষ্প্রাণ বা ডাল হয়ে যাওয়া। তাই আজ থেকেই সচেতন হন। যখনই মনে পড়বে মুখ বন্ধ করুন। দাঁতে দাঁত আলতো করে রাখুন এবং নাক দিয়ে গভীরভাবে নিঃশ্বাস নিন। আর একটা সিক্রেট টেকনিক শিখিয়ে দিচ্ছি যাকে বলা হয় মিউইং। আপনার জিভ বা টাংকে সবসময় মুখের উপরের তালুর সাথে চ্যাপটা করে লাগিয়ে রাখুন। এটা প্রাকৃতিকভাবে আপনার জলাইন শার্প করবে এবং আপনাকে অনেক বেশি মাসকিউলিন দেখাবে। এটা অভ্যাসে পরিণত করতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু এর রেজাল্ট কিন্তু পারমানেন্ট। আমরা বাঙালি পুরুষরা একটা অদ্ভুত ইগো নিয়ে চলি। আমরা গর্ব করে বলি ভাই কাল সারারাত প্রজেক্টের কাজ করেছি মাত্র তিন

4:39 ঘন্টা ঘুমিয়েছি বা ভাই সারারাত গেম খেলেছি ঘুমই হয়নি আমরা মনে করি এটা খুব হার্ড ওয়ার্কিং বা খুব একটা কুল ব্যাপার কিন্তু আপনার শরীর এটাকে কোনভাবে নেয় না এটাকে এমারজেন্সি হিসেবে নেয় রাত 11 টা থেকে ভোর তিনটে এই সময়টা হলো আমাদের শরীরের গোল্ডেন রিপেয়ার টাইম এই সময় আমাদের শরীর হিউম্যান গ্রোথ হরমোন যাকে বলা হয় এইজিএইচ এবং টেস্টোস্টেরন তৈরি করে আমাদের ছেলেদের ফেস গ্লো করে এবং মেলিনেস ভাব ধরে রাখার জন্য টেস্টোস্টেরন হলো মেইন হিরো। যখন আপনি রাত দুটো পর্যন্ত জেগে রিলস দেখতে থাকেন তখন আপনি এই হরমোন প্রোডাকশনকে বন্ধ করে দেন। উল্টে আপনার শরীরের কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন রকেটের গতিতে বাড়তে থাকে। মনে রাখবেন হাই কর্টিসল মানে কিন্তু কোলাজেন ভেঙে যাওয়া। আপনার স্কিনে অতিরিক্ত তেল বা সিবাম তৈরি হওয়া। যা থেকে আপনার মুখে পিম্পেল আসে।

5:25 চোখের নিচে এমন পার্মানেন্ট ডার্ক সার্কেল পড়ে যা কোন ক্রিমও ঠিক করতে পারে না। তাই মোবাইলটা বালিশের পাশে রেখে ঘুমাবেন না। ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত এক ঘন্টা আগে স্ক্রিন টাইম বন্ধ করুন। সাত থেকে আট ঘন্টার নীরবিচ্ছিন্ন ঘুম হলো পৃথিবীর সেরা এবং সবচেয়ে সস্তা এন্টি এজিং ট্রিটমেন্ট। ট্রাই করে দেখুন। এক সপ্তাহও ঠিকমত ঘুমলে আপনার স্কিনের টেক্সচার এবং এনার্জি দুটোই বদলে যাবে। চতুর্থ অভ্যাসটা আমরা মিনিটে মিনিটে করি কিন্তু টেরি পাই না। গবেষণায় দেখা গেছে একজন মানুষ গড়ে 16 থেকে 23 বার নিজের মুখে হাত দেয়। একবার ভাবুন তো আজকের দিনে আপনি কি কি স্পর্শ করেছেন। অফিস থেকে ফেরার পথে বাসের অপরিষ্কার হ্যান্ডেল, অফিসের কিবোর্ড, ধুলবালি মাখা বাইকের হ্যান্ডেল বা পকেটের টাকার নোট। মাইক্রোস্কোপের নিচে নিজের হাতটা দেখলে

6:11 দেখবেন এগুলোতে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া কিলবিল করছে। আর যখনই আপনি গালে হাত দিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে বসে আছেন বা গরমে কপালে হাত দিয়ে মুচছেন বা সামান্য চুলকানি হলেও নখ দিয়ে মুখটা খুঁজছেন আপনি আসলে এই কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়াকে আপনার তবকের পোরসে বা ছিদ্রের ভেতরে ইনজেক্ট করে দিচ্ছেন? অনেক ছেলেরা আমাকে এর আগে প্রশ্ন করেছিলেন যে ভাই টিনেজ তো কবেই পার হয়ে গেছে। তাও কেন আমার গালে ব্রণ হচ্ছে? এর উত্তর হলো আপনার হাত। আপনার হাতি আপনার মুখের সবচেয়ে বড় শত্রু। এই ব্যাকটেরিয়া গুলো ত্বকের ভেতরে ইনফ্লামেশন তৈরি করে। আর ব্রণগুলো শুকিয়ে গেলেও দেখবেন বাজে কালো দাগ রেখে যায় যা আপনার ক্লিন লুক নষ্ট করে দেয়। তাই নিয়মটা খুব সিম্পল। কিন্তু মেনে চলা কঠিন। ডোন্ট টাচ ইওর ফেস। যদি মুখ মুছতেই হয় তবে পরিষ্কার রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার

6:57 করুন। হাত না ধুয়ে কখনোই মুখ স্পর্শ করবেন না। আর একটা প্রো টিপস। সপ্তাহে অন্তত একবার আপনার বালিশের কভারটাকে বদলান। কারণ বালিশের কভারে জমে থাকা তেল আর ময়লা সারারাত আপনার ত্বকের 12টা বাজিয়ে দেয়। শীতকাল হোক বা বর্ষাকাল অনেকেই আরামের জন্য গরম জল দিয়ে মুখ থুতে পছন্দ করেন বা গোসলের সময় শাওয়ারের গরম জল সরাসরি মুখে দেন। ভাই এটা আপনার তবকের জন্য সুইসাইড বা আত্মহত্যার সমান। কেন জানেন? আমাদের তবকের উপরে একটা খুব পাতলা তেলের আস্তরণ থাকে। একে বলা হয় স্কিন ব্যারিয়ার। এটা তবককে বাইরের ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে এবং ময়েশ্চার ধরে রাখে। গরম জল এই ন্যাচারাল প্রটেক্টিভ লেয়ার বা তেলকে সম্পূর্ণরূপে ধুয়ে ফেলে। যার রেজাল্ট হয় মারাত্মক। আপনার ব্রেন সিগনাল পায় যে মুখের স্কিন শুকিয়ে গেছে। তখন

7:44 ব্রেন ইমারজেন্সি রেসপন্স হিসেবে আরো বেশি করে তেল বা সিবাম উৎপন্ন করে। একদিকে তবক খসখসে হয়ে যায়। অন্যদিকে অতিরিক্ত তেলের কারণে পোরস বন্ধ হয়ে যায়। মানে ড্রাইনেস এবং একনে একসাথে। তাই সবসময় আমি আবার বলছি সবসময় রুম টেম্পারেচার ওয়াটার বা সাধারণ তাপমাত্রার জল দিয়ে মুখ ধোবেন। যদি শীতে খুব কষ্ট হয় তবে হালকা কুসুম গরম জল ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু ধোয়া ওঠা ওই গরম জল কখনোই মুখে দেবেন না। ফেস ওয়াশ করার পর ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধোয়া সবচেয়ে ভালো। এতে পোরস গুলো টাইট থাকে। ছ নম্বর পয়েন্টটা নিয়ে আমাদের ভুল ধারণা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে আমরা ছেলেরা এটা মানতেই চাই না। আরে ভাই আমি তো বেশিক্ষণ রোদে থাকি না। আমি তো অফিসের ভেতরেই থাকি বা আমার গায়ের রং শ্যামলা আমার সানস্ক্রিন দিয়ে কি হবে? ভাই সূর্য আপনার সাথে

8:30 লুকুচুরি খেলছে না। সূর্যের দুই ধরনের ক্ষতিকর রশ্শি আছে। একটা হলো ইউভিএ এবং ইউভিবি। এর মধ্যে ইউভি এ কাজ ভেদ করে আপনার অফিসের ভেতরেও আসতে পারে। এমনকি মেঘলা দিনেও 80 শতাংশ ইউভি রশ্শি মেঘ ভেদ করে নিচে চলে আসে। এই রশ্শি আপনার ত্বকের ওপরের লেয়ার পোড়ায় না বরং গভীরে গিয়ে ডিএনএ ড্যামেজ করে। একে বলা হয় ফটো এজিং। আজ আপনার বয়স 30 কিন্তু আপনাকে 35 বা 40 লাগছে। এর প্রধান কারণ এই সূর্য। মুখের মেচেতা, পিগমেন্টেশন, চামড়া কুচকে যাওয়া বা লেদারের মত শক্ত হয়ে যাওয়া। এই সবকিছুর মূলে এই ইউভি রশ্শি। আপনি ফর্সা হোন বা শ্যামলা। আপনি বাইকে ঘুরুন বা এসির নিচে বসে থাকুন। সানস্ক্রিন মাস্ট। সকালে মুখ ধোয়ার পর একটা ভালো মানের এসপিএফ 30 বা

9:15 এসপিএফ 50 সানস্ক্রিন মাখুন। এটা কোন বিলাসিতা নয়, এটা একটা প্রয়োজনীয়তা। সানস্ক্রিন শুধু আপনাকে কালো হওয়া থেকে বাঁচায় না, এটা আপনাকে বুড়ো হওয়া থেকে বাঁচায়। শেষ পয়েন্ট, কিন্তু সবচেয়ে বেসিক। এটা না মানলে ওপরের কোন টিপস কাজ করবে না। একটা উদাহরণ দিই। আপনি যদি একটা সতেজ আঙ্গুরকে রোদে শুকিয়ে ফেলেন সেটা কি হয়? কিসমিস হয়ে যায়। তাইতো? কিসমিসের গা কেমন কুচকানো থাকে দেখেছেন? আমাদের স্কিন সেলগুলো ঠিক আঙ্গুরের মত। যখন শরীরে পর্যাপ্ত জল থাকে, সেলগুলো হাইড্রেটেড থাকে, ফুলে থাকে এবং ত্বক টানটান দেখায়। কিন্তু আমরা কাজের চাপে জল খাওয়ার কথা ভুলেই যাই। যখন আপনি জল কম খান, আপনার স্কিন সেলগুলো কিসমিসের মত চুপসে যায়। আপনি যতই দামি ময়েশ্চারাইজার লাগান। যদি ভেতর থেকে হাইড্রেশন না পায় আপনার তবক কিন্তু কোনদিনও গ্লো করবে না। ডিহাইড্রেশন

10:03 মানেই চোখের নিচে গর্ত, ঠোঁট ফাটা এবং নিষ্প্রাণ মরা চেহারা। তাছাড়া জল আমাদের শরীর থেকে টক্সিন বা বিষ বের করে দেয়। জল কম খাওয়া মানে ওই টক্সিন শরীরে জমে থাকছে যা পরে ব্রণো বা র্যাশ হয়ে ফুটে বেরচ্ছে। তাই অ্যালার্ম দিয়ে জল খাওয়ার দরকার নেই। একটা সহজ নিয়ম মনে রাখুন। আপনার ইউরিনের কালার চেক করুন। যদি সেটা পরিষ্কার বা হালকা হলুদ হয় আপনি ঠিক আছেন। যদি গাড়ো হলুদ হয় তার মানে আপনার শরীর চিৎকার করে জল চাইছে। কাজের টেবিলে সবসময় এক বোতল জল রাখুন এবং জিপজিপ করে সারাদিন জলটা পান করুন। ভাই এই ছিল সেই সাতটা সাইলেন্ট কিলার যা অজান্তেতেই আপনার মুখের 12টা বাজাচ্ছে। এর মধ্যে কোন ভুলটা আপনি সবচেয়ে বেশি করেন? চিনি খাওয়া নাকি রাত জাগা? কমেন্ট করে আমাকে অবশ্যই জানান। আমি দেখতে চাই কতজন নিজের ভুল স্বীকার

10:48 করার সাহস রাখেন। তবে দাঁড়ান এখনই চলে যাবেন না। আমি ভিডিওর শুরুতে বলেছিলাম না যে একটা বোনাস টিপস দেবো যা আপনার লাইফস্টাইল বদলে দেবে। দেখুন এই বদ অভ্যাস গুলো বাদ দেওয়া হলো প্রথম ধাপ। মানে আপনি ক্ষতি করা বন্ধ করলেন। কিন্তু যে ক্ষতি অলরেডি হয়ে গেছে সেটা রিপেয়ার করবেন কি করে? কিভাবে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে মাত্র পাঁচ মিনিটের একটা বিশেষ রুটিন ফলো করলে আপনার বয়েজ ধরে রাখা কেউ আটকাতে পারবে না। সেই এন্টি এজিং মর্নিং রুটিন নিয়ে আমি একটা ডিটেইল এবং প্র্যাক্টিক্যাল ভিডিও অলরেডি বানিয়ে রেখেছি। যেখানে আমি দেখিয়েছি ঘুম থেকে ওঠার পর ঠিক কি করলে আপনার স্কিন আবার জীবন্ত হয়ে উঠবে। এই যে স্ক্রিনে ভিডিওটা আসছে এখনি ওখানে ক্লিক করুন এবং জেনে নিন সকালের সেই ম্যাজিক রুটিন সম্পর্কে। দেরি করবেন না। কারণ আপনার ফিউচার ফেস আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। দেখা হচ্ছে ওখানেই।

Share

YouTube Video Summaries