0:00 রাজনীতিতে নেতা-নেত্রীদের কথা ঘোরানোর যে ট্যালেন্টটা রয়েছে মানে পরিস্থিতি অনুযায়ী একেবারে মুহূর্তের মধ্যে কথা এদিক থেকে ওদিকে করে ফেলার যে হিসেবটা সেটা একদম আলাদা লেভেলের। যেমন দেখুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 21শে জুলাই এর মঞ্চ থেকে আজ বক্তব্য রেখেছেন। প্রত্যেকবার 21শে জুলাই আমরা দেখি যে বৃষ্টি হয় এবং বৃষ্টির পর মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রতিবারই মঞ্চের উপর থেকে বলেন যে দেখেছেন তো বৃষ্টি হচ্ছে। 21শে জুলাই এর এই হচ্ছে নিয়ম প্রতিবার বৃষ্টি হয়। এর মানে হলো 21শে জুলাই এর মঞ্চের উপরে ভগবানের আশীর্বাদ রয়েছে। ভগবান আমাদের দেখছেন। তার আশীর্বাদ ঝড়িয়ে দিচ্ছেন আমাদের উপর। এবার যেই মমতা বন্দোপাধ্যায় দেখলেন যে বৃষ্টির তো নামগন্ধ নেই। গরমে একেবারে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে সকলের। সেখানে মমতা বন্দোপাধ্যায় সঙ্গে সঙ্গে গোটা ফিলোসফিটাই চেঞ্জ করে দিলেন। পুরো কথা 180 ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন করলেন
0:46 যে দেখলেন তো 21শে জুলাই এবার কিন্তু বৃষ্টি হলো না। কেন হলো না বলুন তো? কিছুটা থেমে তিনি নিজেই উত্তর দিয়ে বললেন যে এইবারে নতুন খেলা শুরু হয়ে গেছে। সূর্যদেব এখন বলছেন চোখ দিয়ে জল নয় আগুন ঝরাতে হবে। আর সেই আগুনে যারা কুৎসা করছে যারা অপপ্রচার করছে তৃণমূল কংগ্রেস ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে তাদের জবাব দেবে। ভাবুন একবার। কিরকমভাবে গোটা বিষয়টা গোটা ন্যারেটিভটা তিনি ঘুরিয়ে দিলেন এবং এটা খুবই ভালো কথা যে তিনি জানতেন নতুন খেলা শুরু হয়ে গেছে বৃষ্টি এবার হবে না কারণ সূর্যদেব এরকম কথাবার্তা বলছেন তা তিনি যখন জানতেনই তখন তার দলের লোকজনকেও সেটা বলে দিতে পারতেন একটু আগে থেকেই মমতা বন্দোপাধ্যায় তার দলের লোকজনকে সাবধান করে দিতে পারতেন যে এবার কিন্তু বৃষ্টি হবে না আমি কিন্তু জানি কারণ তা না হলে দেখা গেল তার দলের লোকজন কিভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আজকে রোদের মধ্যে মদন মিত্র
1:32 তো দেখা গেল এডিসিবিআই ছাড়াই হাসপাতালে চলে গেছেন আজকে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কীর্তি আজাদ শতাব্দী রায় সবারই সেই একই অবস্থা তো সেটা মুখ্যমন্ত্রী বলে দিতে পারতেন কিন্তু মদ্দা কথাটা হচ্ছে এইটাই যে কয়েনের এপিট পড়ুক বা ওপিট যাই হবে আমি বলব আমি জিতেছি কারণ আমি তো এটাই চেয়েছিলাম একইভাবে মমতা বন্দোপাধ্যায় যে কোন ন্যারেটিভকে নিজের দিকে যেভাবে ঘুরিয়ে নিতে পারেন নিজের দিকে যেরকমভাবে টেনে আনতে পারেন যে পারদর্শিতার সঙ্গে যে দক্ষতার সঙ্গে এই কাজটা তিনি করেন সেটাকে আপনি কিছুতেই অস্বীকার করতে পারবেন না ইউ হ্যাভ টু গিভ ডেল ডিউ এবং আজও সেই মঞ্চের উপর থেকে যে বিষয়টা আমরা দেখতে দেখতে পেলাম পেহেলগামে যে জঙ্গি হামলা হয়েছিল সেই ক্ষত আমরা আজও বহন করে নিয়ে চলেছি। আমরা সেটা কোনদিন ভুলতে পারবো না। আজও সেই পরিস্থিতি সেটা আমাদের চোখের সামনে ভাসে। এবং আমরা দেখেছিলাম যে ওই ঘটনা ঘটার পরে
2:20 আপনারা নিশ্চয়ই জানেন ঝন্টু আলী শেখ যিনি আমাদের দেশের একজন মহান শহীদ। তিনি সেনাজওয়ান ছিলেন। তিনি নিজের প্রাণ দিয়ে আমাদের দেশকে রক্ষা করেছেন এবং তিনি আমাদের দেশের শ্রদ্ধেয় শহীদ। তার কথা আমরা যেরকম জেনেছিলাম তেমনি ওই প্যাহেলগামে জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছিলেন বিতান অধিকারী এই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা সেটাও আমরা জেনেছিলাম এবং সেখানে আমরা প্রত্যেকে আমাদের তরফ থেকে তাদেরকে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। এবার আমরা দেখেছিলাম যে পেহেলগামের ঘটনাটা ঘটার পর বিজেপির তরফ থেকে রাজনৈতিকভাবেও কিছু পদক্ষেপ সামনে রাখা হয়েছিল। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে শুভন্দু অধিকারী এয়ারপোর্টে গিয়েছিলেন বিতান অধিকারী স্ত্রী এবং তার সন্তানকে রিসিভ করার জন্য। সেই মুহূর্তে তারা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। সেই পরিস্থিতি সামনে এসেছিল। সুবেন্দু অধিকারী তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং তারই সঙ্গে বিতান অধিকারীর স্ত্রীকে
3:05 সহমর্মিতা জানানো বিজেপির তরফ থেকে এবং ভারতীয় নাগরিকত্বের কাগজপত্র তার হাতে তুলে দেওয়া কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তিনি নিজে হাতে এই কাজটা করেছিলেন এবং এই বিষয়টা সামনে আসার পরে এটা বলা হয়েছিল যে সহমর্মিতা দেখানো এবং তারই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রত্যুৎপন্ন মতিত্বের একটা উদাহরণ। এটা দুটোই সামনে একসঙ্গে রাখা হয়েছে। বিজেপির তরফ থেকে এটা একটা পজিটিভ পদক্ষেপ সামনে দেখা গেছে। আজ দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কিন্তু নিজের মত করে নিজের মঞ্চের উপরে ঠিক একই রকম জিনিসটাকে নিয়ে এসেছেন। বিতান অধিকারী যিনি জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন তার পরিবার তার বাবা-মাকে মমতা বন্দোপাধ্যায় 21শে জুলাই এর মঞ্চের উপরে নিয়ে এসেছেন। তার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করছেন সকলে। তাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে এবং মঞ্চের উপর থেকে দেখা যাচ্ছিল যে বিতান অধিকারীর বাবা-মা তারা কান্নায়
3:52 ভেঙে পড়ছেন। তাদের একটা সম্মান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের দেশের শ্রদ্ধেয় শহীদ ঝন্টু আলী শেখের পিতা সবুজ আলী শেখ তাকেও মমতা বন্দোপাধ্যায় 21শে জুলাই এর মঞ্চের উপরে নিয়ে এসেছেন। তাকেও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন, সম্মান জানিয়েছেন। এবার শহীদ ঝন্টু আলী শেখের যে গোটা বিষয়টা তার পরিবার তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। সেখানেও বিজেপির তরফ থেকে কিছু বক্তব্য রাখা হয়েছে, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে। কিন্তু মোটামুটিভাবে একটা দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছে। বিতান অধিকারের স্ত্রীকে বরঞ্চ কিন্তু রাজনৈতিক মঞ্চে দেখতে পাওয়া যেতে পারে। বিজেপির রাজনৈতিক মঞ্চে তিনি আসতে পারেন। এই নিয়ে একটা কথাবার্তা শুরু হয়েছিল। কিন্তু আজ মমতা বন্দোপাধ্যায় সেই ন্যারেটিভটাকে নিজের দিকে নিয়ে এসে নিজের মত করে তাদের মঞ্চের উপরে নিয়ে এসে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে সহমর্মিতা বা রাজনৈতিক প্রত্যুৎপন্ন মতিত্ব দুটোর একটাও বিজেপি
4:38 একাই করতে পারে এরকমটা নয়। সেইটা প্রমাণ করে দিলেন। সেইটা তিনি আজ দেখিয়ে দিলেন। একটা বিষয় কিন্তু খুব স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায় আজ মঞ্চের উপর থেকে। শুভেন্দু অধিকারী যেমন পশ্চিমবঙ্গের একাংশ মানুষকে এটা বিশ্বাস করাতে পেরেছেন যে হিন্দুরা বিপন্ন হিন্দুরা একটা ক্রাইসিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গে কিন্তু হিন্দুরা যথেষ্ট বিপদের মধ্যে রয়েছেন তেমনি মমতা বন্দোপাধ্যায় উল্টোদিকে কিন্তু এই মুহূর্তে একেবারে মরিয়া নির্বাচনের আগে এটা প্রমাণ করার জন্য এবং মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাসটা তৈরি করার জন্য যে বাঙালি বিপন্ন বাঙালিদের উপরে কিন্তু অত্যাচার হচ্ছে বাঙালিদের বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশে চালান করে দেওয়া হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাংলা ভাষার উপরে কিন্তু আক্রমণ নেমে আসছে। অর্থাৎ এখানে দাঁড়িয়ে একটা বিষয় খুব পরিষ্কার। দেখুন এই গোটা বিষয়টা মানে এখানে মমতা
5:25 বন্দোপাধ্যায় যে দাবি করছেন বা সুবেন্দু অধিকারী যে দাবি করছেন দুটোর মধ্যেই কতটা সততা আছে বা নেই সেই নিয়ে আমি বা আপনি প্রশ্ন করতে পারি চর্চা করতে পারি। কিন্তু আল্টিমেটলি রাজনীতিতে নির্বাচনী ময়দানে লড়াইটা ন্যারেটিভের। মানুষ যে কথাটা বেশি বিশ্বাস করবেন সেদিকেই মানুষ বেশি ঝুকবেন। কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার যে আগামী নির্বাচনের লড়াইটা এই দুদিকের তরফ থেকে হবে। দুটো ভয়কে সামনে রেখে একদিকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দাবি বাঙালি সংকট আরেকদিকে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি হিন্দু সংকট। তারই সঙ্গে 21শে জুলাইয়ের মঞ্চের উপর থেকে বিজেপিকে তো একাধিক কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং বিজেপিকে কটাক্ষ করে এ কথাও বলা হয়েছে যে বিজেপি তো রাম মন্দির করলো অযোধ্যাতে এবং সেখানে তাদের এত প্রভাব থাকার কথা অথচ যেখানে মন্দির হলো সেই অঞ্চলে বিজেপি পরাজিত হয়েছে তাহলে
6:10 তারা কি বা করতে পারলো? দেখুন এখানে একটা কথা বলতেই হবে মমতা বন্দোপাধ্যায় বিজেপিকে কটাক্ষ করলেও ঠিক বিজেপির দেখানো পথেই কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন। এক্সাক্টলি বিজেপি যা করেছে ঠিক সেই দিকে তিনি এগচ্ছেন। যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ মঞ্চের উপর থেকে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসেছেন যে একদিকে যেরকম জগন্নাথ ধাম হয়েছে সেরকমই দুর্গাঙ্গন হবে পশ্চিমবঙ্গে। এবার দুর্গাঙ্গন বিষয়টা কি? দুর্গা ঠাকুরের মন্দির হবে নাকি দুর্গা ঠাকুরের জন্য কোন মিউজিয়াম। দুর্গাপূজোর মিউজিয়াম যেরকম আমাদের একটা অলরেডি পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে সেরকম কিছু হবে সেটা এখনো পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। কিন্তু একটা মন্দির হয়েছে তারপর হয়তো আরেকটা মন্দিরের প্রতিশ্রুতি তিনি সামনে রাখছেন। এক্স্যাক্টলি বিজেপির যে পলিটিক্স বিজেপির যে ধরনের কাজকর্ম বা যে ধরনের রাজনীতির দিকে এগিয়ে যায় মমতা বন্দোপাধ্যায় ঠিক
6:56 সেটাই করছেন শুধু বিজেপিকে গালাগালি দিয়ে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে রাম মন্দিরের গোটা চ্যাপ্টারটার পর এবং রাম মন্দির উদ্বোধন হওয়ার পর একটা স্লোগান উঠেছিল যো রাম কো লায়েঙ্গে হাম উনক লায়েঙ্গে এবং এই লাইন এই স্লোগানের উপর ভিত্তি করে অনেক গানও গাওয়া হয়েছিল বিজেপির তরফ থেকে এটা প্রচারে ব্যবহারও করা হয়েছিল যে আমরা রাম মন্দির তৈরি করেছি আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবার তাহলে আপনারা আমাদের ভোটটা দিন আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ভগবান রামকে আমরা ফিরিয়ে আনবো এবং সেটা আমরা করেছি তাহলে এবারে ভোটটা আমাদেরকে দিন এইখানে যে পলিটিক্যাল বেনিফিটের জায়গাটা সেটা অবশ্যই বিজেপি পেয়ে ছিল। এবার আমি জানি কিছু মানুষ আছেন এক্ষুনি বলবেন যে রাম মন্দির বিজেপির টাকায় তৈরি হয়নি সেটা ট্রাস্টের টাকায় তৈরি হয়েছিল। এই কথা যদি কেউ বলেন আপনার হাঁটুতেও এর থেকে বেশি বুদ্ধি রয়েছে। আপনিও জানেন যে এখানে পলিটিক্যাল বেনিফিটের কথা বলা হচ্ছে।
7:41 বিজেপির এটা ঘোষিত এজেন্ডা ছিল। বিজেপির তরফ থেকে এই প্রতিশ্রুতি ছিল। তারা এই লড়াইয়ের কথা বারবার বলেছেন এবং রাম মন্দির হওয়ার পরে যে পলিটিক্যাল বেনিফিট সেটা যদি কোন রাজনৈতিক দল পেয়ে থাকে তাহলে সেটা বিজেপিই একমাত্র পেয়েছে। অন্য কেউ নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু ঠিক সেই পথেই এগিয়ে আমি মন্দির উদ্বোধন করছি এরপর আরেকটা মন্দির উদ্বোধন করব এবং তারই সঙ্গে কালীঘাট স্কাইকের কথা তিনি যেটা বারবার তুলে ধরেন এই সমস্ত কিছুর মাধ্যমে যে পলিটিক্যাল বেনিফিট আসবে সেটা যাতে তার দিকে যায় সেই চেষ্টা কিন্তু তিনি ক্রমাগত করে চলেছেন। আর এই যে দুর্গাঙ্গনের কথা হচ্ছে আগেই বললাম যে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে অলরেডি মা ফিরে এলো বলে একটি এই ধরনের মিউজিয়াম রয়েছে। দুর্গাপূজো দুর্গা ঠাকুরের মিউজিয়াম রয়েছে। এখন দুর্গাঙ্গনের বিষয়টা কি হবে সেটা তো অবশ্যই দেখার বিষয়। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে এই যে বাঙালি
8:27 অস্মিতা বাঙালি দেব দেবীদের নিয়ে টানাটানি মন্দির এই সমস্ত কিছুর আগে দুর্গাপূজোটা কিন্তু অলরেডি অনেকদিন আগেই রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়ে গেছে অবশ্যই এটা আমাদের প্রাণের উৎসব আমাদের সকলের প্রিয় উৎসব কিন্তু তারই সঙ্গে দুর্গাপূজোকে পলিটিসাইজ করা বা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা এটা কিন্তু বহু বছর আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে আপনি পশ্চিমবঙ্গের যেকোন ছোট বড় মেজো পূজো তুলে নিন তার কমিটিতে আপনি দেখবেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা আছেনই আছেন একেবারে দাঁত ফুটিয়ে তারা বসে রয়েছেন এবং এই সম্ভবত একটা জায়গা যেখানে নেতারা নিজেদের পকেট থেকে টাকা পয়সা খরচ করেন। যদিও সেটা ডিবেটেবল সেই নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। কিন্তু এই বিষয়টা অনেকদিন ধরেই ঘটছে। বিজেপিও বারবার এই জায়গাটায় ঢোকার চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। ফাইনালি একটি দুর্গাপূজোর মাধ্যমে কিন্তু বিজেপি এই সিনটাতে ঢুকতে পেরেছে। আর সেটা সজল ঘোষের
9:13 দুর্গাপূজো। রাজনৈতিক পরিস্থিতির টালমাটাল খানিকটা হলেও এই দুর্গাপূজো কমিটির যে অধিকার সেটা বেশ পৈত্রিক সূত্রে তিনি পেয়েছেন এবং এই একটা দুর্গাপূজোর মধ্যে কিন্তু বিজেপি ঢুকতে পেরে তাও তাদের একটা উপস্থিতি তাদের সেটা তারা সামনে রাখতে পেরেছে এবং বাঙালিয় আনার প্রতি তাদেরও যে ক্লেমটা রয়েছে বা বাঙালিয়ানাকে তারাও কতটা সম্মান করে দুর্গাপূজোকে কতটা সম্মান করে সেটা এই একটা জায়গার মাধ্যমে বিজেপি সামনে রাখতে পেরেছে। তো এই দুর্গাপূজোকে পলিটিসাইজ করা বা দুর্গাপূজোকে পলিটিক্যাল রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এটা কিন্তু অনেকদিন ধরেই চলছে এবং তারই সঙ্গে এই যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক মন্দির, জয় মা কালী, বাঙালি অস্মিতা, দুর্গাঙ্গন এই সমস্ত কথাবার্তাগুলো সামনে রাখছেন এর কারণ এটাও যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানেন যে ন্যারেটিভটা যদি জয় শ্রীরাম হয় তাহলে খেলাটা তিনি
9:58 খুব একটা জমাতে পারবেন না। তিনি খুব একটা খেলতে পারবেন না। কিন্তু ন্যারেটিভটাকে ঘুরিয়ে তিনি যদি জয় মা দুর্গা বা জয় মা কালীতে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে আবার সেই খেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টক্কর দেওয়াটা কিন্তু যথেষ্ট কঠিন হবে। উত্তরকন্যা অভিযানের আগেই শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করেছিলেন একুশে জুলাই নিয়ে এবং তিনি বলেছিলেন যে একুশে জুলাই আসলে কোন সভাই নয় ওটা কোন সভা নয় ওটা হলো পাগলু ডান্স আর ওখানে লোকজনকে জোর জবরদস্তি ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরে আবার তিনি আরো এক কাঠি উপরে উঠে দাবি করেছেন যে একশে জুলাইয়ের এই সভায় যারা গেছেন তারা প্রত্যেকে রোহিঙ্গা এবং দাগী চোর আর তাদের সঙ্গেই কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বিজেপির তরফ থেকে এই রোহিঙ্গা বিষয়টা বারবার সামনে তুলে ধরা হচ্ছে তার কারণ তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমাগত বিজেপিকে বাঙালি বিরোধী বলে আখ্যা দিতে চাইছে বাঙালি বিরোধী বলে দাগিয়ে দিতে
10:44 চাইছে এবার বাঙালি বিরোধী এই তকমাটা খানিকটা হলেও ঘোচাতে বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে অনেকগুলো বছর কাজ করতে হয়েছে খাটতে হয়েছে এবার সেই জায়গাটাই মমতা বন্দোপাধ্যায় আবার খুচিয়ে ঘা করে তুলছেন। তো সেই ভয়ের জায়গা থেকেও বিজেপির তরফ থেকে বারবার কিন্তু এই রোহিঙ্গা ইস্যুর কথাটাকে সামনে রাখা হচ্ছে। এবার দেখুন আজ মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম্বার ওয়ান এবং নাম্বার টু তারা কিন্তু মঞ্চের উপর থেকে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এই বিষয়টার উপরে তারা আরো ক্রমাগত হ্যামার করতেই থাকবেন তারা রীতিমত ডাবল ডাউন করছেন এটা বলা তো তারা থামাবেনই না আরো বেশি করে বলবেন কারণ আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় সবথেকে বেশি যে বিষয়টা শোনা গেল সেটা হচ্ছে বাঙালির উপর আক্রমণ বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ বাংলা ভাষার অবমাননা করা হচ্ছে অপমান করা হচ্ছে বাংলা বললে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া
11:29 হচ্ছে এবং এই সমস্ত কিছু করছে বিজেপি। বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে এটা হচ্ছে। বিজেপি এই কাজ করছে। কেন্দ্রের বিজেপির সরকার এটা করাচ্ছে। বিজেপি বাংলা বিরোধী বাঙালি বিরোধী একটি রাজনৈতিক দল। এবার দেখুন মমতা বন্দোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করছেন বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ করা হচ্ছে। বাংলা ভাষার অপমান করা হচ্ছে। এবার আপনি যদি আবার প্রশ্ন করেন যে বাংলা ভাষায় শুভনন্দনের মত একটি শব্দের আমদানি এবং তারপরে বাংলা ভাষায় একের পর এক এমন সব অদ্ভুত অদ্ভুত গান লেখা এবং সেগুলোর অদ্ভুত সুর দেওয়া একের পর এক হঠাৎ হঠাৎ করে বাংলা কবিতা লেখা এবং সেই কবিতায় এমন কিছু বাংলা শব্দ ব্যবহার করা যেগুলোকে বাংলা শব্দ বলে দাবি করা হলেও তার মানে কারোর জানা নেই কিংবা বাংলা বই তিনি যেগুলো লিখেছেন সেগুলো সমস্ত সরকারি
12:14 স্কুলের লাইব্রেরিতে রাখতেই হবে ম্যান্ডেটারি ঘোষণা করা সরকারের তরফ থেকে কিংবা নিরলস কবিতা সাধনার জন্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার মমতা বন্দোপাধ্যায়ের চরণে সমর্পণ করা চরণে উৎসর্গ করা এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে ঠিক বাংলা ভাষাকে কতটা গৌরবান্বিত করা হয়েছে এই সমস্ত পদক্ষেপ বা এই সমস্ত কাজগুলোর মাধ্যমে বাংলা ভাষার উপর কতটা আক্রমণ নেমে এসেছে বা বাংলা ভাষা কতটা অপমানিত হয়েছে এই প্রশ্ন যদি আপনি করেন ওদিক থেকে খুব একটা উত্তর আপনি পাবেন বলে মনে হয় না। দেখুন একটা বিষয় অনেকেই বারবার ভুলে যান যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোর ভোটার যারা তারা কিন্তু গ্রামের মানুষ, তারা মফস্বলের মানুষ এবং তাদের আশ্বস্ত করার থেকে ভয় দেখানোটা রাজনীতিতে অনেক বেশি কাজে দেয়। তাদের যদি এগুলো দিয়ে ভয় দেখানো যায় যে
12:59 তোমার ভাষার উপর আক্রমণ আসছে। তুমি বাংলায় কথা বলতে পারবে না। বাংলায় কথা বললে তোমায় ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাবে। তুমি যা খেতে চাও সেটা খেতে পারবে না। তুমি কিছু খেতে চাইলে তোমার দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হবে। যেটা মমতা বন্দোপাধ্যায় আজকে বলেছেন যে বিভিন্ন জায়গায় বলছে মাছ খাবে না মাংস খাবে না এখানে এসে একবার করো তো করে দেখাও দেখি কত সাহস আছে তোমার এখানে করতে পারো কিনা দেখাও তো এই যে ভয় দেখানো এটা অনেক বেশি কাজে দেয় এটা তিনিও ভালো করে জানেন এবং এই ভয়ের উপরে তৃণমূল কংগ্রেস আরো ডাবল ডাউন করতে চলেছে সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায় আরো বেশি করে এই কথাগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে মুখ্যমন্ত্রী যেটা ঘোষণা করেছেন 27শে জুলাই থেকে ভাষা আন্দোলন শুরু হবে প্রত্যেক শনি রবিবার করে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা এই বাংলা ভাষার উপরে যে আক্রমণ করা হচ্ছে বা বাঙালিদের উপর যে আক্রমণ করা হচ্ছে তার প্রতিবাদে মিটিং মিছিল করবেন। তারই সঙ্গে মমতা
13:46 বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন যে এই যে বাংলা ভাষার উপর সন্ত্রাস এটা আমরা কিছুতেই মানবো না। আপনারা আরো বেশি করে বাংলায় কথা বলুন। আগামী নির্বাচনের রেজাল্ট বেরনো পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। এর সঙ্গে বিহারের প্রসঙ্গ টেনে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আজ মঞ্চের উপর থেকে 41 লক্ষ ভোটারের নাম বিহারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও সেই পরিকল্পনা করছে। পশ্চিমবঙ্গে একজনেরও নাম যদি বাদ পড়ে তাহলে কিন্তু ঘেরাও হবে। বাংলা ভাষার উপরে বাঙালিদের উপরে এই সন্ত্রাস আমরা মানবো না মানবো না মানবো না। এবার এখানেই দেখুন মজার বিষয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা ভাষার উপর আক্রমণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এর আগের দিনও আমরা দেখেছি এবং আজও দেখা গেল মঞ্চের উপর থেকে বেশ খানিকটা সময় হিন্দিতে কথা বললেন এবারে ন্যাশনাল মিডিয়ায় যদি কভারেজ পেতে হয় ন্যাশনাল
14:31 মিডিয়া আপনার বক্তব্য কাভার করবে সেই নিয়ে রিপোর্ট করবে এটা যদি নিশ্চিত করতে হয় তাহলে খানিক হিন্দিতে কথা তো বলতেই হবে এবং তারই সঙ্গে আজ মঞ্চের উপর থেকে তৃণমূলের মঞ্চের উপর থেকে ললিতেশ ত্রিপাঠী সহ বেশ কিছু নেতাদের গলায় শোনা গেল দিল্লিতে আমরা লড়াই করব দিল্লিতে যাব জাতীয় স্তরে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দরকার প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী লড়াইতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে যেতে হবে। এরকম বেশ কিছু কথারও ইঙ্গিত দেওয়া হলো। তো সেই জায়গাটাও যদি নিশ্চিত করতে হয় সেই জায়গাতে যেতে গেলে হিন্দি তো খানিকটা বলতেই হবে। তাই হিন্দি বলা হলো। একদম শেষে দুটো কথা উল্লেখ করতে হয়। আজ বাংলার বুকে কলকাতার বুকে একটি মঞ্চের উপর থেকে বাঙালি নেত্রী তারা বাঙালি নেতা তারা নানা রকম ভাবে বাংলা ভাষার কথা বললেন বাঙালি বাঙালি করে অনেক কিছু বাঙালি অস্মিতা বাংলা ভাষা বাঙালির অপমান অনেক কিছু বললেন এবং তার মাঝখানে কয়েকখানা মিথ্যে কথা মিথ্যে দাবিও ঢুকিয়ে দিলেন এবং এটাও বাঙালির
15:17 উপরেই পরিহাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেরকম আজ কর্মসংস্থানের কথা বললেন 40 শতাংশ বেকারত্ব তিনি ঘুচিয়ে দিয়েছেন সেসব কথা বললেন এবং শিল্প হিসেবে দেউচাপাচামি তাজপুর পোট এসবের খতিয়ান দিলেন যেগুলো এখনো পর্যন্ত ঝুলে রয়েছে হবে কিনা সন্দেহ কাঠালে রামসত্তর মত সেই কথাগুলো তুলে ধরলেন। একটা জায়গায় তিনি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বললেন বিজেপি বলেছিল দু কোটি চাকরি দেবে কই তারা দিতে পেরেছে? একটা জায়গায় মনে হচ্ছিল মুখ্যমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডবল ডবল চাকরি হবে সেই ডবল ডবল চাকরি হয়েছে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে। আর চাকরি হারিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির জন্য বাংলার যে যুবক-যুবতীরা বসে রয়েছেন রাস্তায় এবং তারা বাংলায় যে দিনের পর দিন প্রতিবাদ করছেন সেটা তার কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে কিনা কেই বা জানে এবং সে সম্পর্কে আজ মঞ্চের উপর থেকে একটা বাক্য পর্যন্ত খরচ করলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন বাংলা প্রীতি তাদের
16:04 এখন এসে ধরেছে মনে হচ্ছে দুদিন পরে মদন মিত্রও বলবেন যে এবার আমি ইংলিশ ছাড়লাম বাংলা ধরলাম দিদির সমর্থক যারা এসব কথাগুলো শুনলেন তারা উল্লাসে ফেটে পড়লেন তারা হাততালি দিলেন তারপর তারা তারা সবাই হয় বাড়ি চলে গেলেন আর না হলে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বা চিড়িয়াখানা দেখতে চলে গেলেন। দ্বিতীয় কথা আজ যারা এই কথাগুলো শুনে ভাবছেন ও এসব কথা বিন্দুমাত্র ধোপে টিকবে না। এসব জারিজুড়ি টিকবে না। এত বাঙালি অস্মিতা বাঙালির উপরে আক্রমণ এসব কথায় কিচ্ছু হবে না এসবে চিড়ে ভিজবে না। তাদেরকে একটু মনে করিয়ে দিই যে 2021 এ মনে আছে তো আপনাদের। একেবারে চারিদিকে লোকজন বলতে শুরু করেছিলেন হাওয়া ঘুরে গেছে। হাওয়া ঘুরে গেছে আমরা হাওয়া বুঝতে পারছি। একেবারে উল্টো দিকে ঘুরে গেছে হাওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো এবার যাবেনই যাবেন। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিদায় তো হবেই হবে। ফলাফল কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টো হয়েছিল। একটা সন্দেশখালির মত ঘটনা সামনে আসার পরেও
16:51 কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল অন্যদিকে গিয়েছিল এবং অন্যরকমই হয়েছিল। রাজনৈতিক মতামত সকলেরই থাকতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে আপনি হতাশ হতে পারেন। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যিনি বারবার ক্ষমতায় এসেছেন এবং ক্ষমতাকে ধরে রেখেছেন বারবার সেটা ফ্লুকে হয়নি। হয়ে গেছে জিতে ফেলেছেন ব্যাপারটা এরকম হয়নি তিনি সেটা করেছেন। কাজেই উল্টো দিকে যারা রয়েছেন তারাও শুধুমাত্র বলবেন যে আরে এটা ধোপে টিকবে না। এতে তো কিছুই হবে না। শুধু বলে কিছু হবে না। তাদেরও কিছু না কিছু করতে হবে। একটা কথা কিন্তু স্পষ্ট। দিদি মঞ্চের উপর থেকে এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে তিনি তার হাতিয়ারে শান দিচ্ছেন এবং বিনা যুদ্ধে তিনি সুচাগ্র মেদিনীও ছেড়ে দেবেন না। আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি। আপনাদের মতামত অবশ্যই জানাবেন। পরের দিন দেখা হবে অন্য একটি
17:37 বিষয় নিয়ে আলোচনায়। ভালো থাকবেন।