0:01 ইউএফসির ইতিহাসে এমন একজন ফাইটার আছে যাকে পৃথিবীর কেউ আজ পর্যন্ত হারাতে পারেনি। 29 টা ম্যাচের মধ্যে 29 টাতেই জয়। একটাতেও হার নেই। এটা শুধু একটা রেকর্ড নয় এটা একজন মানুষের সারাজীবনের কষ্ট সাধনার ডিসিপ্লিনের গল্প। যেই গল্পের একমাত্র নায়ক হলো খাবিব। যার একেকটি পাঞ্চ আমরা টিভির পর্দায় বা মোবাইল ফোনে দেখে মুগ্ধ হই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে খাবিব কিভাবে এত শক্তিশালী হল? জন্ম থেকেই কি তার কোন সুপারপাওয়ার ছিল? উত্তরটা হলো না। তার সাফল্যের পেছনে কোন সুপারপাওয়ার কিংবা ম্যাজিক ফর্মুলা ছিল না। বরং এটা ছিল তার ডিসিপ্লিন এবং হারনামানা মানসিকতার ফলাফল। আমাদের মধ্যে মোটামুটি সবাই জীবনে একটা লক্ষ্য ঠিক করে রাখি। আমরা ভাবি কাল থেকে
0:47 জিম শুরু করবো। কাল থেকে পড়াশোনায় মন দেবো। নিজের বদ অভ্যাস গুলোকে বদলাবো। কিন্তু দু'- তিনদিন পরেই আমরা থেমে যাই। হারিয়ে ফেলি আমাদের অনুপ্রেরণাকে। কিন্তু খাইবের ক্ষেত্রে গল্পটা সম্পূর্ণ আলাদা। প্রতিদিন [মিউজিক] একই রোটিনম হারভাঙ্গা পরিশ্রমার নিজের সাথে নিজের লড়াই করার মানসিকতায় তাকে ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা ফাইটারদের একজন বানিয়েছে। বন্ধুরা খাবি এমন ডিসিপ্লিনময় জীবনের শুরুটা হয়েছিল একদম ছোটবেলা থেকেই। অন্য বাচ্চারা যখন ঘুমের ঘোরে মগ্ন থাকতো খাবি তখন পাহাড়ি রাস্তায় দৌড়াতে বের হতো। অন্যরা যখন আরাম খুঁজতো খাবিব তখন কষ্টকে বেছে নিত। আর এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই তাকে একদিন এমন এক মানুষে পরিণত করেছিল যাকে হারানো প্রায় অসম্ভব ছিল। নগরবেস্কোপের এই ভিডিওতে আজ আমরা খাবিবের সেই ডিসিপ্লিন
1:34 নিয়েই কথা বলব। জানার চেষ্টা করব কেন আমাদের সকলের ডিসিপ্লিন হওয়া উচিত খাবি মতো এবং কিভাবে এই ডিসিপ্লিন আপনার পুরনো সেই একঘে জীবনকে বদলে দিয়ে এক নতুন প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে পারে। তো চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক। হাবিবের জন্ম হয়েছিল রাশিয়ার দাগেস্তান নামের একটা জায়গায় 1988 সালে। এটি এমন একটি এলাকা যেখানে জীবনযাপন করা মোটেও সহজ ছিল না। শীতকালে প্রচন্ড ঠান্ডা পড়তো যার কারণে সেখানে মানুষের জীবনযাপন ছিল ভীষণ কষ্টের। তবে এসবের বাইরে খাইবের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছিল তার বাবা আব্দুল মানাব। তিনি ছিলেন একজন ফাইটিং কোচ। তবে তিনি শুধু খাবিবকে একজন ফাইটার বানাতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন তার ছেলেকে এমন একজন মানুষ বানাতে যে কোন
2:21 পরিস্থিতিতেই ভেঙে পড়বে না। এই লক্ষ্যকে মাথায় রেখে খাইবের ট্রেনিং শুরু হলো। আর সেটা মাত্র নয় বছর বয়স থেকে। যদিও এই ট্রেনিং মোটেও সহজ ছিল না। কখনো কখনো এমনও হয়েছে যে তাকে জীবন্ত ভাল্লুলোকের সাথে কুস্তি লড়তে হয়েছে। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই ছিল তার বাবার ট্রেনিং এর একটা অংশ। খাবির বাবা বিশ্বাস করতেন যদি একজন মানুষ ছোটবেলা থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে শেখে তাহলে বড় হয়ে সে কোন কিছুতেই ভয় পাবে না। এরপর থেকেই খাবিকে রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠতে হতো। এরপর শুরু হতো দৌড়ানোর পালা। তবে সেটা সোজা রাস্তা কিংবা কোন ট্রেট মিলে নয় বরং পাহাড়ি এলাকায়। বরফের মধ্যে দিয়ে দৌড়ানো উঁচুনিচু ও পাথরে পথ পাড়ি দেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের রুটিনের অংশ। তবে শুধু দরুণেই
3:07 নয় মাঝেমধ্যে ভারী বস্তা বা ওজন কাঁধে নিয়ে তাকে পাহাড়ে উঠতে হতো। কখনো কখনো বরফের মধ্যে খালি গায়ে ব্যায়াম করতে হতো। যাতে শরীর ঠান্ডার কষ্ট সহ্য করতে শিখে। সকালের এত ধকলের পর খাবিব স্কুলে যেত। কিন্তু স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পরও তার বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ থাকতো না। কারণ সেখান থেকে ফিরেই শুরু হতো ফাইটিং প্র্যাকটিস। প্রতিপক্ষকে টেকডাউন করা একই মুখ বারবার প্র্যাকটিস করা এই কাজগুলো সে এতবার করেছে যে সেগুলো তার শরীরের জন্য একটা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে গেল। সারাদিনের এত পরিশ্রমের পরেও তাকে পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে হতো। কখনো কখনো সে এতটাই ক্লান্ত থাকতো যে রাতে বই হাতে নিয়েই সে ঘুমিয়ে পড়তো। খাবিবের আরেকটা ভালো দিক ছিল। সে কখনো নিজেকে অন্যদের সাথে তুলনা করতো না।
3:54 তার প্রতিযোগিতা ছিল শুধুমাত্র নিজের সাথে। গতকাল যতটা দৌড়েছে আজ তার চেয়ে একটু বেশি দৌড়তে হবে। গতকাল যতটা প্র্যাকটিস করেছে আজ তার চেয়ে একটু ভালো করতে হবে। অবশেষে একটা সময়ে সে খাবি প্রস্তুত হয়ে যায় বড় মঞ্চে লড়াই করার জন্য। 2008 সালে সে প্রফেশনাল ভাবে এমএমে ক্যারিয়ার শুরু করে। আর শুরু থেকেই একটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে যায়। যেই ছেলেকে থামানো প্রায় অসম্ভব। অন্য ফাইটাররা যেখানে সপ্তাহে কয়েকদিন প্র্যাকটিস করত খাবি সেখানে ছোটবেলা থেকেই প্রতিদিন [মিউজিক] বছর পর বছর ধরে নিজেকে তৈরি করেছিল। তার ফাইটিং স্কিল ছিল এতটাই শক্তিশালী যে একবার সে প্রতিপক্ষকে মাটিতে ফেলে দিলে সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যেত। 2012 সালে খাবি প্রথমবারের মতো পা রাখে ফাইটিং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ
4:42 ইউএফসিতে। আর সেখানেও তার পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। একের পর এক ফাইটে সে প্রতিপক্ষদের নাস্তানাবোধ করে দেয়। সময়ের সাথে সাথে তার জয়ের সংখ্যাও বাড়তেই থাকে। পাঁচ 10 15 20 একটার পর একটা জয়। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তার একটা ফাইটেও হার ছিল না। প্রতিটা ফাইটে সে যেন প্রমাণ করছিল যে তার ছোটবেলার সেই কষ্ট ত্যাগ ও ডিসিপ্লিন কোনটাই [মিউজিক] বৃথা দেয়নি। বন্ধুরা এখন প্রশ্ন হলো আমরা তো আর ইউএফসিতে লড়তে যাচ্ছি না। কিংবা আমাদের ভালুকের সাথে কুষ্টি লড়ারও দরকার নেই। কিন্তু খাইবের এই ডিসিপ্লিনের শিক্ষাটা আমরা কিভাবে নিজেদের জীবনে কাজে লাগাতে পারি? প্রথম জিনিসটা হলো প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা। আপনি যদি প্রতিদিন দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন তাহলে আপনার পুরো দিনটাই এলোমেলো [মিউজিক]
5:27 হয়ে যায়। কিন্তু আপনি যদি প্রতিদিন একই সময়ে উঠে দিনটা শুরু করেন তাহলে ধীরে ধীরে আপনার মাইন্ড এবং বডি দুটি একটি শৃঙ্খলার মধ্যে চলে আসবে। দ্বিতীয় জিনিস হলো অচুয়াত খোঁজা বন্ধ করতে হবে। খাবিব কখনো বলতো না আজ শরীরটা ভালো না তাই প্র্যাকটিস করবো না বা আজকে বৃষ্টি হচ্ছে তাই দূরতে যাব না অথচ যখন আমাদের কোন কাজ করতে ইচ্ছে করে না তখন নিজে থেকেই হাজার টোজত খুঁজে বের করে ফেলি কিন্তু ডিসিপ্লিন মানেই হলো মন যাই বলুক নিজের সাথে করা প্রতিশ্রুতিটা ধরে রাখা তৃতীয় জিনিসটা হলো একদিনে বড় কিছু করার চেষ্টা না করা ছোট ছোট অভ্যাস তৈরি করা খাইব একদিনেই এমন এক্সপার্ট হয়ে যায়নি সে প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেকে আপডেট করেছে আপনি যদি প্রতিদিন সামান্য একটু হলেও নিজেকে আপডেট করার চেষ্টা করেন সেটা হতে
6:14 পারে পড়াশোনা কিংবা কাজে। তাহলে কয়েক মাস পর নিজেই অবাক হয়ে যাবেন নিজের বদলে যাওয়া দেখে। নাম্বার ফোর অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা না করে নিজের সাথেই প্রতিযোগিতা করা। খাইব কখনো অন্য ফাইটারদের সাথে নিজেকে তুলনা করতো না। আপনি যদি অন্যের সাথে তুলনা বন্ধ করে শুধু নিজের উন্নতির দিকে মনোযোগ দেন তাহলে হিংসা বা হতাশা কমে গিয়ে বরং কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়বে। পঞ্চম জিনিসটা হলো কমফর্ট জোন এড়িয়ে চলা। আমাদের মন সবসময় সহজ পথ খুঁজে বের করতে চায়। কিন্তু [মিউজিক] খাবি আমাদের শেখায় যখনই আমাদের সামনে দুটো অপশন থাকবে তখন সহজটির তুলনায় কঠিনটাই বেছে নিতে হবে। অথচ আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমরা ফোনে ইনস্টল করে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে দেই। জাস্ট একটা মেসেজ কিংবা একটা নোটিফিকেশন। এরপর
7:02 আমরা দুনিয়ার সবকিছু ভুলে গিয়ে মগ্ন হয়ে যাই মোবাইল ফোনের নেশায়। ভার্চুয়াল জগতের এমন অহেতুক সব অক্টিভিটির ফাঁকে আমরা ভুলে যাই আমাদের লক্ষ্যের কথা। কিন্তু খারিব জানতো সে কি চায় এবং কেন সে এত কষ্ট করছে। লক্ষ্য যখন পরিষ্কার থাকে তখন কষ্টটাও সহজ মনে হয়। কিন্তু লক্ষ্য যদি অস্পষ্ট থাকে তাহলে সামান্য কষ্টে মানুষ হাল ছেড়ে দেয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হলো কনসিস্টেন্সি বা ধারাবাহিকতা। একদিন পরিশ্রম করে পরের সাতদিন বসে থাকলে কোন লাভ নেই। খাবি বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিন একই কাজ করে গেছে। ছোট ছোট কাজ যখন প্রতিদিন করা হয় তখনই সেটা একসময় বিশাল কিছুতে রূপ নেয়। মনে রাখবেন খাবিও একদিনে খাবি হয়ে ওঠেনি। এটা তৈরি হয়েছিল প্রতিদিনের ছোট ছোট কষ্ট আর
7:47 কখনো হালনা ছাড়ার মানসিকতা থেকে। তাই আপনাকেও রোজ একটু একটু করে নিজের বদঅভ্যাস গুলোকে ভালো অভ্যাসে পরিণত করার চেষ্টা করতে হবে। কথায় বলে ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে তোলা যায়। কিন্তু যে ঘুমিয়ে থাকার অভিনয় করে তাকে কখনো জাগানো যায় না। আপনার ক্ষেত্রে আপনার বাহানাগুলি হচ্ছে ঘুমিয়ে থাকার অভিনয়ের মতো। যতদিন আপনি বাহানা দেওয়াকে নিজের জীবন থেকে সরিয়ে না দিচ্ছেন ততদিন আমি কেন? আলবার্ট [মিউজিক] আইনস্টাইন আপনাকে পরামর্শ দিয়ে কিছু করতে পারবে না। আর যদি আপনি আমাকে কথা দিতে পারেন যে আজ থেকে সব বাহানা বাদ দিয়ে দিবেন তাহলে আমি আপনাকে গ্যারান্টি দিচ্ছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আপনি নিজের ভেতরে পরিবর্তন দেখতে পাবেন। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা জানিয়ে আজকের মত বিদায় নিচ্ছি। ভিডিওটি ভালো লাগলে একটা লাইক করতে পারেন এবং শেয়ার করতে পারেন
8:34 আপনার বন্ধুদের সাথে। ততক্ষণ পর্যন্ত সাবস্ক্রাইব করে নগরবাসকুপের সাথেই থাকুন।