Odhikar | অধিকার | Full Natok | Niloy Alamgir | Heme | Mohin Khan | Bangla Eid Natok 2026

NAF Entertainment www.youtube.com

সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

এই ইউটিউব ভিডিওটিতে নাবিলা নামের একটি শহুরে মেয়ের গ্রামের সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর গল্প তুলে ধরা হয়েছে। রাশেদ নামের এক ছেলে তার স্ত্রীকে গ্রামে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের নানা ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়।

  • গ্রামের সহজ সরল জীবনযাত্রা এবং মানুষের আন্তরিকতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
  • শহরের আধুনিক জীবন এবং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য দেখানো হয়েছে।
  • পরিবারের বন্ধন এবং ভালোবাসার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নদীতে প্রথম অভিজ্ঞতা

নাবিলা জীবনে প্রথমবার নদী দেখে মুগ্ধ হয়, কারণ সে আগে শুধু বই আর সিনেমাতেই নদী দেখেছে। রাশেদ মজা করে জানায় যে নদী পার হতে হলে জামাকাপড় খুলতে হবে, যা শুনে নাবিলা ভয় পায় কারণ তার জলভীতি আছে। রাশেদ তাকে সাহস জোগায় এবং জানায় শ্বশুরবাড়িতে যেতে একটু কষ্ট করতে হয়। পরে রাশেদের মা এসে জানায় যে নদীতে নৌকা আছে এবং রাশেদ তার সাথে মজা করছিল।

নৌকা ভ্রমণ এবং মাঝির গল্প

নৌকা করে নদী পার হওয়ার সময় মাঝি নদীতে সাপ ও কুমিরের গল্প বলে নাবিলাকে ভয় দেখায়। নাবিলা ভয় পেয়ে নেমে যেতে চায়। মাঝি আরও জানায় যে নদীতে প্রায়ই নৌকা ডুবে মানুষ মারা যায়। রাশেদ জানায় নাবিলা সাঁতার জানে না শুনে মাঝি তাকে আরও ভয় দেখায়। পরে মাঝির কাকা জানায় যে নদীতে সাপ, কুমির কিছুই নেই, বরং ফ্যাক্টরির বর্জ্যে নদী দূষিত হয়ে গেছে।

গ্রামে স্বাগতম এবং চাচীর সাথে পরিচয়

রাশেদ ও নাবিলা গ্রামে পৌঁছালে চাচা ও চাচী তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। নাবিলা চাচীর আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়। চাচী নাবিলাকে গ্রামের ধুলাবালি নিয়ে বিভিন্ন কথা বলে এবং গ্রামের পরিবেশের উপকারিতা বর্ণনা করে। রাশেদ তার ডাস্ট এলার্জির কথা জানায়। চাচী নাবিলাকে সুন্দর বউ হিসেবে প্রশংসা করে এবং রাশেদকে ভাগ্যবান বলে উল্লেখ করে।

পুরানো বাড়িতে নাবিলা

নাবিলা পুরনো টিনের ঘর দেখে খুশি হয় এবং বৃষ্টিতে টিনের চালে শব্দ শোনার ইচ্ছার কথা জানায়। রাশেদ জানায় চাচা চাচী মাটির ঘরে থাকে এবং এই ঘরে নাকি একটা ভূত থাকে। চাচী বেলের শরবত নিয়ে আসে এবং ঘরে ঢোকার আগে অনুমতি না নেওয়ায় নাবিলা কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়। চাচী নাবিলাকে বেলের শরবত খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানায় এবং রাশেদকে জোর করে খাওয়াতে বলে।

স্মৃতি বিজড়িত কাঁথা

চাচী রাশেদের জন্য পুরনো একটি কাঁথা বিছিয়ে দিতে চায়, যা রাশেদের অনেক স্মৃতি বিজড়িত। নাবিলা জানায় তারা ঢাকা থেকে বেডশিট এনেছে। চাচী কাঁথার সাথে রাশেদের ছোটবেলার স্মৃতিগুলো বর্ণনা করে, যা শুনে রাশেদ লজ্জা পায়। চাচী নাবিলাকে বেলের শরবত খেতে বলে এবং নিজে কাঁথা বিছিয়ে দেয়।

গ্রামের রান্না এবং গল্প

রাশেদের বাবা আম্বিয়ার রান্নার প্রশংসা করেন এবং ঢাকায় তার রান্না মিস করার কথা বলেন। তিনি আম্বিয়াকে তাদের সাথে ঢাকায় গিয়ে থাকার প্রস্তাব দেন। নাবিলা চাচীর কাছে রান্না শিখতে চায়। চাচী নাবিলাকে নিজের হাতে রান্না করে স্বামীকে খাওয়ানোর গুরুত্ব বোঝায়। রাশেদের মা রাশেদের ছোটবেলার গল্প বলেন এবং আম্বিয়া কিভাবে রাশেদকে সামলাতো তা জানান।

খাওয়া নিয়ে আদিখ্যেতা

চাচী নাবিলাকে মাছের কাঁটা বেছে খাওয়াতে চান, কিন্তু রাশেদ আপত্তি করে। চাচী জোর করে রাশেদকে নলা খাওয়ান, যা রাশেদ অপছন্দ করে এবং তার ওসিডি (Obsessive-Compulsive Disorder) সমস্যার কথা জানায়। চাচী লজ্জিত হয়ে নাবিলাকে নিজের মতো করে খেতে বলেন।

চুলের তেল এবং শাড়ি

চাচী নাবিলাকে গাছের নারকেল তেল দিতে চান, যা শুনে রাশেদ আপত্তি করে এবং বলে যে গ্রামের সস্তা তেল দিলে চুল নষ্ট হয়ে যাবে। চাচী রাশেদকে ধমক দেয় এবং নাবিলাকে তেল দেওয়ার উপকারিতা বোঝায়। নাবিলা চাচীর শাড়ি পড়লে রাশেদ সেই শাড়িকে সস্তা বলে এবং নাবিলাকে গ্রামের মহিলাদের মতো লাগছে বলে মন্তব্য করে।

শাড়ির অপমান

রাশেদের মা রাশেদকে ধমক দিয়ে বলেন যে চাচীর শাড়ির মধ্যে অনেক মায়া, আদর ও ভালোবাসা আছে, যা দামি। রাশেদ জানায় যে সে ভালো করেই বোঝে কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। সে অভিযোগ করে যে তার চাচী নাবিলাকে গ্রামের মহিলাদের মতো বানাতে চাইছে, যা তার একদম পছন্দ নয়।

চাচার সিগারেট

রাশেদ তার চাচাকে সিগারেট খেতে দেখে রেগে যায়, কারণ তার বাবার হার্টের সমস্যা আছে। রাশেদ চাচাকে তিরস্কার করে এবং বলে যে গ্রামের মানুষ নির্লজ্জ। রাশেদের বাবা তার ছেলের পক্ষ নিয়ে বলেন যে রাশেদ বিদেশে লেখাপড়া করেছে এবং সিগারেট সহ্য করতে পারে না। চাচা জানান যে তিনি আর কখনো সিগারেট খাবেন না।

পুরোনো দিনের ছবি

চাচী নাবিলাকে পুরনো দিনের ছবি দেখাতে চান। ছবিতে রাশেদের দাদা-দাদি এবং তার বাবা-মায়ের বিয়ের ছবি ছিল। নাবিলা ছবি দেখে তাদের প্রশংসা করে। চাচী রাশেদের ছোটবেলার ছবি দেখাতে চান, কিন্তু রাশেদ আপত্তি করে। চাচী রাশেদের হামাগুড়ি দেওয়ার ছবি এবং আকিকার সময়ের ছবি দেখান, যেখানে রাশেদের গায়ে কাপড় ছিল না।

নাবিলার সাথে রাশেদের কথোপকথন

নাবিলা রাশেদের সাথে চাচীর সাথে খারাপ ব্যবহারের জন্য কথা বলে। রাশেদ জানায় যে তার অতিরিক্ত আদর পছন্দ নয় এবং ছোটবেলার ছবি দেখানোর দরকার ছিল না। নাবিলা জানায় যে চাচা চাচী তাদের বাবা-মায়ের মতো এবং তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা উচিত না। রাশেদ রাজি হয় এবং নাবিলাকে গ্রাম ঘুরিয়ে দেখানোর প্রস্তাব দেয়।

ফুপুর বাড়ি

রাশেদ নাবিলাকে তার ফুপুর বাড়ি নিয়ে যায়। ফুপু রাশেদকে অনেকদিন পর দেখে অভিমান করে এবং বিয়ে করার খবর না জানানোর জন্য অভিযোগ করে। ফুপু জানান যে রাশেদের বাবা তাদের বাড়ি ভিটা সব মসজিদ ও আম্বিয়ার নামে লিখে দিয়েছেন।

সম্পত্তির আসল রহস্য

ফুপা জানান যে রাশেদের বাবা মসজিদ ও আম্বিয়ার নামে সবকিছু লিখে দিয়েছেন। ফুপু জানান তিনি অনেক অনুরোধ করেও কোনো ফল পাননি। তিনি অভিযোগ করেন যে রাশেদের বাবা তার এবং রাশেদের অধিকার নষ্ট করেছেন। ফুপা জানান মসজিদ তাদের বাড়ির কাজের লোক এবং তারা ভুলিয়ে ভালিয়ে রাশেদের বাবার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নিয়েছে।

ডুপ্লেক্স বাড়ি বানানোর পরিকল্পনা

রাশেদ তার বাবাকে জানায় যে সে মাটির ঘর ও টিনের ঘর ভেঙে ডুপ্লেক্স বাড়ি বানাতে চায়। তার বাবা জানান যে তিনি এই সম্পত্তি তার চাচাজিকে লিখে দিয়েছেন। রাশেদ ক্ষুব্ধ হয়ে বলে যে তারা সামান্য কেয়ারটেকার এবং তিনি এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেন না।

সম্পত্তির উত্তরাধিকার

রাশেদের বাবা জানান যে তিনি জীবিত অবস্থায় তার সম্পত্তি যাকে খুশি তাকে দিতে পারেন। রাশেদ জানায় যে সে এই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী। রাশেদের মা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু রাশেদ জানান যে তিনি জানেন কিভাবে সম্পত্তি আদায় করতে হয়।

চাচা চাচীর সাথে খারাপ ব্যবহার

রাশেদ চাচা ও চাচীকে ভণ্ড, বাটপার ও লোভী মহিলা বলে তিরস্কার করে। সে অভিযোগ করে যে তারা তার বাবা-মাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে তাদের সম্পত্তি লিখে নিয়েছে। রাশেদের মা রাশেদকে ধমক দেন এবং জানান যে তারা স্বেচ্ছায় এই সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন।

বাড়ি ছাড়ার হুমকি

রাশেদ তার মাকে তাবিজ করার অভিযোগ করে এবং চাচা চাচীকে গরীব, অশিক্ষিত ও মূর্খ বলে অপমান করে। সে তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে এবং দলিল বুঝিয়ে দিতে বলে, নতুবা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

আম্বিয়ার কষ্ট

আম্বিয়া এবং মজিদ রাশেদের ব্যবহারে কষ্ট পান। আম্বিয়া জানান যে রাশেদকে নিশ্চয়ই কেউ ভুল বুঝিয়েছে। মজিদ জানান যে রাশেদ চাইলে তারা এই মুহূর্তে সব সম্পত্তি তার নামে লিখে দেবেন। রাশেদের মা রাশেদকে ঘরে যেতে বলেন এবং আম্বিয়াকে মন খারাপ না করতে বলেন।

ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত

আম্বিয়া মজিদকে জিজ্ঞাসা করেন রাশেদ তাদের ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারবে কিনা। মজিদ জানান যে রাশেদ তাদের ঘৃণা করে। আম্বিয়া জানান যে রাশেদকে শিশুকাল থেকে তিনি অনেক ভালোবাসতেন, কিন্তু সেই ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই।

সন্তান হারানোর বেদনা

আম্বিয়া আক্ষেপ করে বলেন কেন তার রাশেদের মতো একটি সন্তান নেই। তিনি বলেন রাশেদ তাদের চাকর বাকর বলেছে, অশিক্ষিত মূর্খ বলেছে এবং গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে চেয়েছে। তিনি বলেন তাদের একটি নিজের সন্তান থাকলে সে রাশেদের কথার জবাব দিত।

ক্ষমা চাওয়া

মজিদ আম্বিয়াকে বলেন যে তিনি এর জবাব দিতে পারবেন না। তিনি শুধু তাকে ক্ষমা করে দিতে বলেন। আম্বিয়া জানান যে রাশেদ খারাপ ছেলে না, সে ভুল বুঝতে পারবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে রাশেদ একদিন বুঝবে তাদের আদর যত্ন খাঁটি ছিল।

আম্বিয়া ও মজিদের প্রস্থান

রাশেদের বাবা জানতে পারেন মজিদ ও আম্বিয়া বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। রাশেদ খুশি হয়। তার বাবা রাশেদকে ধমক দেন এবং জানান যে সে যাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে তারাই তার বাবা মা।

আসল পরিচয়

রাশেদের বাবা জানান যে তিনি এবং জুলেখা রাশেদের আসল বাবা মা নন। মজিদ রাশেদের জন্মদাতা পিতা এবং আম্বিয়া তার গর্ভধারিণী মা। রাশেদের মা জানান বিয়ের অনেক বছর হয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি। আম্বিয়া ও মজিদ তাদের সন্তান রাশেদকে তাদের কোলে তুলে দেন এবং বলেন রাশেদ সবসময় জানবে তারাই তার আসল বাবা মা।

সত্যের উপলব্ধি

রাশেদের বাবা জানান মজিদ গরীব ছিলেন এবং তিনি চেয়েছিলেন রাশেদ সঠিক শিক্ষা পাক। মজিদ ও আম্বিয়া তাদের সমস্ত সত্য ত্যাগ করে রাশেদকে তাদের কাছে দিয়ে দেন। রাশেদ বুঝতে পারে যাদেরকে সে গরীব, ছোটলোক ও চাকর বলে অপমান করেছে তারাই তার পিতা-মাতা।

অনুশোচনা

রাশেদ বুঝতে পারে সে মানুষ না, পশু। সে তার জন্মদাতা মা-বাবাকে অপমান করেছে। সে এখন বুঝতে পারছে তারা কতটা আঘাত পেয়েছে। সে নাবিলাকে জানায় যে সে তার বাবা মাকে খুঁজে বের করে তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে চায়।

অনুসন্ধান

রাশেদ মজিদ ও আম্বিয়াকে খুঁজতে বের হয়। সে জানতে পারে তারা নদী পার হয়নি।

পুনর্মিলন

রাশেদ তার বাবা মাকে খুঁজে পায়। সে তাদের কাছে ক্ষমা চায় এবং তাদের আদর করতে অনুরোধ করে। আম্বিয়া রাশেদকে জড়িয়ে ধরে এবং মজিদ তাকে বুকে টেনে নেয়।

ভালোবাসার স্বীকৃতি

রাশেদ তার বাবা মাকে জানায় কেন তারা তাকে তাদের আসল পরিচয় জানায়নি। মজিদ জানান তিনি তার ভাই ভাবীর সংসার টিকিয়েছেন। তিনি জানান যেদিন রাশেদকে তার ভাই ভাবীর সাথে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেদিন তিনি পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলেন।

আর্তনাদ

মজিদ রাশেদকে মা বলে ডাকতে বলেন। আম্বিয়া রাশেদকে বুকে জড়িয়ে ধরে এবং জানান তার আর কোনো চাওয়া নেই।

পরিবারের বন্ধন

রাশেদের বাবা মা জানান রাশেদ তাদের সন্তান। তারা রাশেদকে তাদের সাথে থাকার জন্য অনুরোধ করেন। রাশেদ তার পুরনো বাড়ি ভেঙে বিল্ডিং বানাতে চান এবং সেখানে দুই পরিবার একসাথে থাকতে চান। মজিদ ও আম্বিয়াকে রাশেদকে মা বলে ডাকতে বলা হয়।

Summarize any YouTube video in seconds

Get summaries like this one for any video, in your language, with the free Summ app.

Download on the Apple Store
Get it on Google Play

Transcript

YouTube Transcript Generator

0:14 ও কি সুন্দর নদী ও মাই গড আমি কোন সময় বাস্তবে নদী দেখি নাই এই ফারস্ট টাইম দেখতেছি অলওয়েজ বইয়ে পড়েছি মুভিতে দেখেছি কিন্তু বাস্তবে দেখা হয় থ্যাংক ইউ সো মাচ তুমি আমাকে নিয়ে আসো। দেখি তুমি শার্ট খুলছো কেন? >> শুধু শার্ট না প্যান্ট খুলতে হবে, জুতা খুলতে হবে। না হয় নদী পার হব কিভাবে? >> কি বলো নদী পার হতে শার্ট প্যান্ট কেন খুলতে হবে? নদী পার হতে তো নৌকা লাগবে বা লঞ্চ লাগবে এগুলা নাই? >> না না আমাদের গ্রামের নদী? লঞ্চ নৌকা এসব দিয়ে পার হয় না। হেটে হেটে পার হতে হয়। >> কি বল এত পানির মধ্যে হেটে হেটে কিভাবে আমরা নদী পার হব? >> কি বল? এত পানি কোথায় দেখলে? এটা তো অল্প

1:00 পানি। কোমর পর্যন্ত বা বুক পর্যন্ত হবে। শার্ট প্যান্ট সব খুলে হাতে এভাবে নিয়ে হেটে হেটে চলে যাবো। >> না না না আমার আমার না পানি খুব ভয় লাগে। আমি এভাবে হেটে হেটে পার হতে পারবো না। >> তুমি যেতে পারবে না? তাহলে এক কাজ করো। আমি চলে যাই। তুমি ওয়েট করো। বাবা মা আসলে তাদের সাথে হেটে হেটে এসো। >> না না আমি তোমার সাথেই যাব। কিন্তু আমার যে দামি ড্রেস, জুয়েলারি সবকিছু তো পানিতে গেলে নষ্ট হয়ে যাবে। >> নাবিলা শ্বশুরবাড়ি মধুর হাড়ি। শ্বশুর বাড়িতে যেতে হলে একটু কষ্ট তো করতেই হবে। চলো চলো তুমি সামনে থাকবে আমি পেছনে থাকবো। >> কেন আমি সামনে থাকবো কেন? >> আরে নদীতে যখন অনেক স্রোত আসবে তোমাকে তো ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। আমি যদি পেছনে থাকি তোমাকে ধরতে পারবো। >> ও মাই গড। স্রোত আছে। >> চলো চলো সামনে যাও। >> আল্লাহ তুমি আমাকে বাঁচাও।

1:51 ওমা আরে বৌমা ও বৌমা তুমি কোথায় যাচ্ছ? মা পানিতে নামতেছি। >> কি বল তুমি? এই নদীর পানিতে নামতেছো কেন তুমি? >> কারণ হেটে হেটে নদী পার হতে হবে না। তাইলেই তো ওপারে যেতে পারব। >> তোমাকে কে বলছে নদী? হেটে হেটে পার হতে হবে? >> রাশেদ বলছে >> কি ব্যাপার? আপনারা হাসতেছেন কেন? >> বৌমা রাশেদ তোমার সাথে মজা করেছে। নদী কি হেটে পার হওয়া যায় নাকি? আমি নৌকা খবর দিয়েছি। হাসতেছে। >> রাশেদের বাচ্চা কি? তুমি তুমি কি বলছো ছেলে বলছে এটা >> দুষ্টামি করেছে >> ওই যে ওই যে ওই যে নৌকা চলে আস

2:41 >> চলো আসো আসো আসো আসো আচ্ছা চল >> আসো বাবা আসো >> সবাই আসবে নাকি নৌকা ডুবে গেলে >> আচ্ছা বুঝতে পারছি আমরা সবাই এই নৌকায় গেলে তুমি ভয় পাবা আরেকটা নৌকা আসতেছে ওটাতে আমরা যাব যাও >> যাও যাও >> আরে হয়ে যে তো সরি বাবা বসে যাও বসে যাও

3:38 চাচা এই নদীতে না বড় বড় সাপ ছিল এখন আছে >> ও মাই গড এই নদীতে কি সাপ আছে নাকি >> হ্যা অনেক বড় বড় সাপ এই সাপ তো মাঝে মাঝে নৌকার উপর লাফায় উঠে তারপর মানুষকে কামড় দেয় >> ও মাই গড আমি সাপ খুব ভয় পাই। মাঝি আঙ্কেল আমাকে প্লিজ একটু নামিয়া দেন না। >> আরে ভয় পাইবেন না। এই নদীতে এখন আর সাপ নাই। >> থ্যাঙ্ক গড। খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। আচ্ছা নদীর সাপ গুলো কোথায় গেছে? কোথায় থাকে ওরা? >> সাপ কিভাবে থাকবে? এত বড় বড় কুমির আছে এখন? এই কুমির সাপগুলো সব খেয়ে ফেলেছে। >> নদীতে কুমির আছে। ও মাই গড! কুমির তো সাপের থেকেও বড়। আমাকে ম্যাজিং প্লিজ আমাকে নামায় দেন। এক্ষন নামায় দেন। >> আরে ভয় পাইয়েন না। এখন আর কুমির নাই, সাপও নাই। তবে মাঝে মাঝে নদীতে নৌকাটা ডুইবা

4:27 মানুষ মারা যায়। >> মানুষ নৌকা ডুবে মারা যায়? মানে এই নৌকা কি ডুবে যাবে নাকি? >> আরে হ। ঐ জোরে ছুত আসলে আর বড় বড় ঢেউ আসলে অনেক সময় দেখা যায় কি নৌকা উল্টা যায়। উলটা গিয়া তারপরে মানুষ মারা যায়। >> ও মাই গড। আমি তাহলে কি করবো? নৌকা ডুবে তো আজকে আমি মারা যাব। >> আরে নৌকা ডুবে গেলে সমস্যা কি? আমরা সাতটা পাড়ে উঠে যাব। >> রাশেদ তুমি জানো না আমি সাতার পারি না। >> কি বলু? তুমি এত বড় একটা মেয়ে সাঁতার জানো না? তাহলে তোমার জীবনে সোলা নাই বৃথা। >> মাঝি আঙ্কে প্লিজ আমাকে নামায়া দেন। আমার ভয় লাগতেছে। প্লিজ আমাকে নামাইয়া দেন আমি। আমি মরে যাবো এখানে তাকিয়ে। প্লিজ। মামনি আপনি কান্দেন না আপনারে তো উনি ভয়

5:14 দেখাইছে এই নদীতে কোন সাপও নাই কুমিরও নাই আর দেখতাছেন না ওই পাশে দুইটা ফ্যাক্টরি আছে ফ্যাক্টরি ময়লা আইসা এই নদী এখন ভরা হয়ে গেছে আগের নদী আর এখন নাই গা আর পানির কালার দেখতাছেন না কেমিক্যাল পানি >> রাশেদ তুমি এতক্ষণ আমার সাথে মজা নিছো

6:05 ও ওয়াজ >> ও আল্লাহ >> ভাইজান >> কেমন আছেন? কেমন আছেন আপনি? >> ভালো আছি। ভাবি কেমন আছেন ভাইয়া? আমি তো ভালো আছি ভালো আছি ভাবি। এখন আপনাগোরে দেইখা আরো বেশি ভালো আছি। ভাইজান গো কতদিন পরে গ্রামে আসলেন না? >> প্রায় 12 বছর। 12 বছর পরে গ্রামে আইছি আম্বিয়া। >> আরে বাড়ির রাস্তাঘাটে তো ভুইলা গেছিলাম। মানুষরে জিজ্ঞেস করি আমগো বাড়ির রাস্তা কোন দিকে?

6:52 তারপরে জিজ্ঞেস করতে করতে আইছি। মসজিদ কই? মসজিদরে ডাকো। আছে তো ঘরেই আছে। এই যে দেইখা যান কারা আসছে। >> এইযে ভাইজান আপনারা আইবেন আমার একটু জানা আইবেন না। তো আমি নদীঘাটে নৌকা নিয়ে বইসা থাকতাম। >> আপনার ভাইজান তো খবর দিতে চাইছিল। কিন্তু আমি মানা করছি। আপনাদেরকে একটু সারপ্রাইজ দিতে চাচ্ছিলাম আরকি। >> সত্যি গো ভাবি ভাইজান। আপনেগোরে আটকা দেইখা। আমি এমন অবাক হইছি পুরা তবক খাইয়া গেছি গা। >> ভাইজান ভাবি বিদেশি মেহমান উনারা কারা?

7:39 >> আরে আম্বিয়া তুমি চিনো নাই। আমার ছেলে রাশেদ আর ওর বউ নাবিলা। নাবিলা সালাম দাও। রাশেদের চাচা চাচি। >> আসসালামু আলাইকুম। >> ওয়ালাইকুম। মাসে বড় হয়ে গেছো কেমন আছো বাবা >> ভালো আছি >> আহারে রোদের মধ্যে আইছে দেখছো গামে এক চুপচুবা হয়া ভিজা গেছে >> চাচি চাচি প্লিজ আমার ডাস্ট এলার্জি আছে আপনার শাড়িতে মনে হয় ময়লা আছে সমস্যা হবে প্লিজ আপনার শাড়ি দিয়ে কখনো আমার মুখ মুবেন না >> ওরে রাশেদ এটা তুই কি কইলি আরে গ্রামের ধুলাবালি যদি চোখে মুখে না লাগে তাইলে কেমনে হইবো? তাতে চোখে মুখের কিচ্ছু হয় না

8:26 বরং তোর ডাস্ট এনার্জি ধ্বংস হয়ে যাবে কে? >> তোরা অনেক দিন পরে >> চাচা অনেক গরম লাগছে আমার প্লিজ। থ্যাংক ইউ। >> হো আপনের ঘামে ভিজা শরীর। ওরে জরায়ে ধরছেন। ওর দামি স্বাদটা নষ্ট হয়ে যাইবো না। ময়লা হয়ে যাইবো না সাপটা? তাতো গ্রাম তো গ্রামে থাকেই তাই না? >> মাশাল্লাহ। বৌমা তো খুব সুন্দর। ও বাবা এতদিন জানতাম সুন্দর ছেলেরা সুন্দর বউ পায় না। আমগো রাশেদ সুন্দর। কিন্তু এত মিষ্টি বৌমা কেমনে পাইলা বাবা? >> চাচি রাশেদ অনেক লাকি এর জন্য।

9:15 হ ভাগ্যবান ভাগ্যবান হ আচ্ছা কতদূর থেকা আইছে ভাই ভাবি হ্যা এতদূর রাস্তা চলো মা বাবা চলো চলো ভিতরে চল চল ঘরটা অনেক পুরনো তাই না? >> হুম। >> কেমন লাগছে তোমার? >> ভালো। আমার না অনেকদিনের শোখ ছিল। এরকম একটা টিনের ঘরে থাকবো। আজকে রাতে যদি একটু বৃষ্টি পড়ে না টিনের উপর চিপচুপুর আজ হবে। খুব ভালো লাগছে।

10:03 চাচা চাচিমা তো দেখলাম ওই মাটির ঘরে থাকে। এই রুম কি খালিই থাকে? >> না খালি থাকেন না। এখানেও একজন থাকে। >> ও কে থাকে? >> বড় একটা ভুত থাকে। >> এই যে বেলের শরবত আনছি। খাও বেলের শরবত খাও। >> চাচিমা কারো ঘরে ঢোকার আগে অনুমতি নেয়া দরকার। আপনি একটা কাশি দিয়েও তো আসতে পারতেন। >> দূর আমার বাইস্তার রুমে ঢুকুম। এ নামের বাইচতার বউ এতে আমার কাশি দেওন লাগবো টুক্কা দেওন লাগবো এত কিছু আমি করা পারুম না বাবা এই যে নাও বেলের শরবত আনছি খাও রাশেদ বাবা খাও >> আমি খাবো না >> আরে খাবি না কেন ঢাকা শহরে কি খাস না খাস পেট জাম হয়ে থাকে এই যে খাটি ভেজাল মুক্ত গাছের বেলের শরবত খাবি দেখবি সকালবেলা

10:49 বাথরুমে গেলে পেট একদম পরিষ্কার হয়ে যাব খুব আরাম পাবি নে >> চাচমা কি বলেন আপনি এসব আমার বউয়ের সামনে আর আমি চিনি মেশানো কিছু খাই আব্বা আচ্ছা চাচি মা আমি খাচ্ছি >> হ তুমি খাও দেখবা তুমি খুব আরাম পাইবা আর রাশেদ বাবাজিরে জোর করে খাওয়াও এই খাতো রাশেদ খা >> আমি খাবো না বললাম না >> বেলে খাবো কিন্তু খুব মজা হয়েছে >> হয়েছে আর খেতে হবে না দাও >> আচ্ছা উঠো তোমরা বিছনা টিছনা জাইরা এই খেতাটা বিছাইয়া দেই >> আমরা ঢাকা থেকে বেডশিট নিয়ে আসছি লাগবে না এটা >> আরে ঢাকার বিছনায় তো সারাজীবন ঘুমাওই এই খেতার মধ্যে ঘুমাইলে অনেক আরাম পাইবা অনেক মায়া লাগবো সর বিছাইয়া দেই >> আচ্ছা আমি একটু জানো বৌমা এই খেতার সাথে তোমার স্বামীর অনেক স্মৃতি

11:37 আছে কি স্মৃতি চাচিমা আরে রাশেদ যখন হইছে তখন আমি এই খেতাটা শিলাইছিলাম বুঝছো রাশেদ সারাটা দিন এই খেতার মধ্যে ঘুমাইতো আর একটু পরে পরে এই খালি ছাইড়া দিত আর যহন নাকি বড়ডা ধরতো তখন করে হাইকা >> চাচিমা কি বলেন আপনি এসব আমার বউর সামনে থাক ভালো লাগে না এসব >> শরম পাইছে আচ্ছা আমি আমি হেল্প করছি আপনার দাও >> এটা ও পাশে যাবে >> হ্যা আমি বিছাইতাছি তুমি বসো বৌমা তুমি বেলের শরবতটা বইসা আরাম করে খাও আমি বিছাই দিতাছি >> বাহ চাচিমা এইটা আপনি ডিজাইন করছেন

12:26 >> খুব সুন্দর আম্বিয়া তোমার বয়স হয়েছে ঠিকই বুঝছো কিন্তু তোমার হাতের রান্না ঠিক আগের মতোই আছে >> এত মজা জানো আমি ঢাকায় বসে তোমার এই রান্নাটাকে অনেক মিস করি >> আম্বিয়া এইজন্যই তো তোমারে বলি তুমি আমাদের সাথে ঢাকায় চলো তাইলে প্রত্যেকদিন আমরা অনেক মজার মজার গান্না খাইতে পারব ও আল্লাহ গো ভাইজান আমি গাও গ্রামের মানুষ ঢাকা শহরে গেলে আমি দম বন্ধ হয়ে মইরাই যামুগা তার চাইতে আপনাগো যখনই আমার হাতে রান্না খাইতে মন চাইবো আপনারা সিধা গ্রামে আইসা পড়বেন আপনাগো যা যা খাইতে মন চায় আমি

13:12 সব কিছু খাওয়ামু >> চাচিমা আমাকে একটু রান্নাটা শিখা দিয়েন আমি তো রান্না করতে পারি না >> অবশ্যই শিখাবো কি কব মা তুমি এখনো রান্না পারো না >> এস পাগলামির কোন দরকার নাই এখানে মাটির চুলা তোমার হাত পুড়ে যাবে। >> পুড়লে পুড়বো। স্বামীরে রাইন্দা খাওয়াইতে হইবো না। শোনো গো বৌমা, নিজের হাতে রাইন্দা স্বামীরে খাওয়াইলে যেই আনন্দ পাইবা ওই আনন্দ আর কিছুতেই পাইবা না বুঝছো? তোমারে আমি নিজ হাতে মজার মজার রান্না শিখাবো। আর তুমি রান্না কইরা কইরা রাশেদ বাবাজিরে খাওয়াইবা। >> মামা রাশেদদের কিন্তু খাওয়াও তোমারে তাতে মাইষে খাইছে। >> তাই নাকি? হ্যাঁ আরে তোমার চাচি মাসালার আশা তো

13:58 বুঝতোই না। ও যদি কান্না শুরু করতো তাইলে কেউ আইসা যদি করে নিতো ও কান্নার বাইরে দিত। যেই তোমার চাচা আম্মা আইসা করে নিত ব্যাস ঠান্ডা কান্না বন্ধ। >> ঠিকই তো। আমি যে ওর মা। ওতো আমার হাতে ভাতও খাইতো না। আম্বিয়া যখন খাওয়ায় দিত পেট ভরে ভাত খাইতো। আর জানো কি করতো? সারারাত খালি কান্নাকাটি করতো। এই যে আমলিয়া এসে ওর মাথার কাছে বসলে ওর মাথায় হাত বুলায় দিত। আর ওর সাথে সাথে ঘুমায় যেত। কি এক আজব কান্ড। >> মা এসব পুরনো কথা বাদ দাও তো। আর খেতে বসে এত কথা বলো কেন? ঠিকমত খাও না। মাছে এত কাটা কেন? >> আহারে রাশেদ বাবাজান। তুমি মাছের কাটা বাইচা খাইতে পারতেছো না। আমি খেয়ালই করি

14:44 নাই। আসো। চাচি মা তোমারে মাছের কাটা বাইচা খাওয়ায় দেই। আসো। >> কোন দরকার নেই চাচি। আমি এখন বড় হইছি বিয়ে করছি আমি নিজেরটা নিজে খেতে পারবো >> ওমা শরমের কি আছে এই যে চাচিমার হাতের একটা নলা খাও >> হ তো খাও না >> আরে একটা নলা >> এটা আমি খাবো না >> আহারে >> হয়েছে এবার খুশি আপনি বারবার বললাম আমারটা আমি খেতে পারবো আপনার খাইয়ে দিতে হবে কেন আপনার হাত কি পরিষ্কার নিজে হাতে খাচ্ছেন সেই হাত দিয়ে আমাকে খাওয়াতে আসছেন আমার ওসিটি প্রবলেম আছে থাক খাবই না আমি >> এই খাওয়া ফেলা যাইস না রাশেদ >> রাশেদ বাবা >> চাচি মা আপনি কিছু মনে করবেন না ও একটু এরকমই ওসিডি আছে

15:30 >> না গো মা আমি কি মনে করমু দোষ তো আমার আইডা হাতে খাওয়াইতে গেছি আবার কাপড় চোপড় দিলাম নষ্ট কইরা তুমি খাও তো নিজের খাওয়া খাও খাও পরে খেয়ে নিবে >> রাশেদ বাবা যে খাও উঠ গেল গা >> আচ্ছা পরে খাও অসুবিধা নাই তুমি খাও তুমি খেয়ে নাও। >> নাবিলা। >> গাছের নারিকেলের তেল। >> মা >> হ্যা >> কি হচ্ছে এসব? >> ওমা দেখতেছিস না তোর চাচি নাবিলার মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে। একটু পর আমিও দিব। >> এসব গ্রামের সস্তা তেল মাথায় দিলে মাথার চুলগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। নাবিলা তুমি এসব গ্রামের সস্তা তেল কেন দিচ্ছ? >> চাচিমা বলল তাই

16:16 >> চাচিমা বললে তোমার দিতে হবে। এ রাশেদ খবরদার বৌমারে ধমকাইয়া কথা কবি না কইলাম বৌমা অনেক লক্ষী একটা মাইয়া বৌমার মাথায় তেল দিয়া দিলে চুল মোডেই নষ্ট হইবো না বরং বৌমা আরাম পাইবো বৌমার মাথাটা গরম ঠান্ডা হইব আয়ো মাথাটা ঠান্ডা কইরা দেই আম্বিয়া তুমি একটা কাজ করো তো রাশেদের মাথা তেল দিয়ে দাও ওর মাথাটা না সবসময় গরম থাকে ঠিকই কইছেন ভাবি রাশেদ যে ছোটবেলায় কত যে তেল দিয়া দিছি সারাডা শইলে তেল মাইখা ঢইলা দিতাম বুঝছো তহন রাশেদ বাবাজি খালি কিল কিল কিল কইরা হাসতো এহন তো বড় হইয়া রাশেদ

17:03 বাবাজি সব কিছু ভুইলা গেছে গা চাচিরেই ভুইলা গেছে গা রাশেদ বাবাজি আসো বসো তেল দিয়া দেন তোমার মাথায় আসো >> আমার মাথায় তেল দিতে হবে না তেল আপনার মাথায় দেন আমার তো মনে হয় আপনার মাথায় সমস্যা আছে নাবিলা তুমি এটা কার শাড়ি পড়েছো? >> চাচিমার শাড়ি। চাচিমা বলল, শাড়িটা পড়তে। আমাকে সুন্দর লাগছে না? >> এসব সস্তা শাড়িতে কাউকে সুন্দর লাগে না। তোমাকে বাজে লাগছে, বৃষ্টি লাগছে। গ্রামের গরীব মহিলাদের মত লাগছে। গ্রামের মানুষ যদি দেখে যে আমার বউ এরকম সস্তা শাড়ি পড়ে আছে। আমার মান সম্মান থাকবে? যাও শাড়িটা পাল্টে আসো। যাও।

17:55 রাশেদ তুই এটা কি কথা বললি? হ্যাঁ? >> তোর চাচির শাড়িটা কম দাম হইতে পারে। >> কিন্তু এই শাড়ির মধ্যে যে মায়া, আদর, ভালোবাসা এগুলো তো অনেক দামি রে বাবা। এগুলো তুই কই পাবি? তোর চাচিকে এই কথাটা বলা ঠিক হয়নি। >> কোনটা ঠিক আর কোনটা ঠিক না সেটা আমাকে বোঝাতে আসবে না। আমি খুব ভালো করেই বুঝি। উনি গ্রামের মহিলা তো। আমার বউ গ্রামে বেড়াতে এসছে। উনি আমার বউকে গ্রামের মহিলাদের মত বানাতে চাচ্ছে। এটা আমার একদম পছন্দ না। >> আম্বিয়া তুমি মন খারাপ করো না। আমি তোমাকে বলছি না ওর মাথাটা সবসময় একটু গরম থাকে। এসব আবুল তাবল বলে। আমাদেরকেও বলে। আমরা কিছু মনে করি না তুমি কষ্ট পাইও না বল আমার বিল দে আসো তা আসো

18:43 >> তোমার হাতেরতে এ আরাব আমার থেকে কেত জান >> ভাবি গো আমরা অনেক ভালো মানুষ তুমিও অনেক ভালো মানুষ আঙ্গিয়া আমরা সবাই তোমাকে অনেক ভালোবাসি এইটাই এত ক্ষুদার তোর আসতে >> আরে সিগারেটের দোকান তো আমাগো বাড়ি থেকে

19:29 অনেক দূরে আইতে একটু দেরি হবে না >> আচ্ছা হইছে সিগারেট পাইছস কিনা তাই ক >> আরে পাম না কে পুরা এক প্যাকে ধইরা নিছে এই কেউ জানস জীবনের নানান ধরনের বাজে অভ্যাস ছিল সেগুলা ছাইড়ে দিছে সব খালি এইটা ছাড়তে পারি নাই >> আমিও না আমার বউ আমার সিগারেট খাওয়া দেইখা এমন রাগ হইছে আমাগো এত বকা ঝকা করছে তারপরেও আমি সিগারেট ছাড়তে পারি নাই লুকায় লুকা খাই আমিও তোর ভাবীরে জানাই না লুকায় লুকায় খাই তুই ভাই কতদিন সিগারেট খাইতে তাড়াতাড়ি ধরা আমি একটু গরম করে দেই হ্যা >> কি খাতি

20:30 বাবা তুমি সিগারেট খাইতেছো? না মানে >> তোমার যে হার্টের সমস্যা ডক্টর যে তোমাকে সিগারেট খেতে নিষেধ করেছে সেটা ভুলে গেছো তুমি? তারপর তুমি কোন আক্কেলে এখান দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছ? >> না আমি তো সিগারেট খাই না। অনেকদিন পর তোর চাচার সাথে দেখা হইল। এ কথাবার্তা কইতে কইতে এ সিগারেট দাড়াইছে। >> খুব ভালো করছো। আমি এক্ষন গিয়ে মাকে বলতেছি। তারপর দেখো মা তোমার কি অবস্থা করে। না রাশেদ বাবা তোমার বাবা কিন্তু সিগারেট খাইতে চাই নাই আমি জোর কইরা একটু খাইতে দিছি খবরদার বাবা আমার ভাবিজানরে তুমি বইলো না >> ও তাই তো বলি ঢাকায় তো কখনো আমার বাবাকে সিগারেট খেতে দেখিনি তার মানে আপনি প্রভোগ

21:16 করেছেন আমার বাবাকে সিগারেট খেতে লজ্জা করে না আপনার বড় ভাইকে সিগারেট খেতে দিচ্ছেন লজ্জা করবে কিভাবে গ্রামের মানুষের তো লজ্জা একটু কম নির্লজ্জা কোথাকার এই আপনি নিজে সিগারেট খান নেশা করেন তাই বলে কি আমার বাবাকে নেশাকর বানাবেন >> কি বলছিস তুই এগুলা >> যা বলছি ঠিকই বলছি এজন্যই মানুষ বলে সৎসঙ্গে স্বর্গবাস অসৎসঙ্গে সর্বনাশ আপনি ফারদার আমার বাবাকে কোনদিন সিগারেট খেতে দিবেন না উনার হার্টের সমস্যা কথাটা মাথায় রাখবেন না >> মজিদ কিছু মনে করিস না ভাই ওনারা আমার বিদেশে থেকে লেখাপড়া করছে তো আর সিগারেট খাওয়া একদম সহ্য করতে পারে না >> না না ভাই আমি একটুও কিচ্ছু মনে করি নাই

22:04 আর রাশেদ তো ঠিকই বলছে আমাদের এখন বয়স হইছে না এই বয়সে সিগারেট খাওয়া ঠিক না আজকে থেকে আর কোন সিগারেট খাবো না আমরা খাবই না আমিও খাবো না ফালা >> বৌমা এইযে এই চাডা রাশেদরে খাওয়াও এডা একদম গরুর মালাই চা একদম দেশাল গরুর দুধ দুইটা দেশাল গরু আছে আমার >> হ্যা এত গাড়ো দুধ এত হলুদ কালার মালাইসা >> মালাইসা বেশি মিষ্টি >> কত পুরানো দিনের ছবি বৌমা আসো তোমাকে আগের দিনের ছবি দেখাই এই যে উনি হচ্ছে রাশেদের দাদা আর এই যে উনি রাশেদের দাদি

22:53 দেখো না এই যে বর্ষা যে বসে রইছে চেয়ারের এটা কে বলতো? >> কে? >> এটা তোমার শ্বশুর আর এই যে পাশে আমি >> বাহ আপনাদের বিয়ের পিকচার তো খুব সুন্দর আসছে। আম্মু তখন কিন্তু আপনারা অনেক শুকনা ছিলেন। >> তখন তো শুকনা ছিলাম। এখন বয়স হইছে না। বয়সের ভারে শরীরটাও বাড়ি হইছে। আর তোমার শাশুড়ির ধমক খাইতে খাইতে ওজনও বাড়ছে। চুলও পাইয়া গেছে। >> একদম বলে মোটা হইব। মোটা অনলাই। বৌমা তোমারে রাশেদের ছোটবেলার কিছু ছবি দেখাই। >> না চাচি এসব কোন দরকার নেই। >> না না দরকার আছে। চাচিমা আমি দেখতে চাই দেখান। >> এই যে দেখো আমগো রাশেদ বাবাজি যখন

23:38 সবেমাত্র হামাগুড়ি দেয়। এই এরকম এরকম কইরা খরগোশের মতো হামাগুড়ি দেয়। দেখো এই যে তখনকার ছবি। >> রাশেদ তোমার নাকটা তো পুরা বোঝা ছিল। আর চোখটা তো একদম খরগোশের মতো টুক টুকটাছানি ছিল। আর মুখটা দুপুরের প্যাচার মতো ছিল। >> এই আম্মিয়া ওই যে তিন মাস সময়ের যে ছবিটা আকিকার ওই ছবিটা দেখ। >> ও >> না চাচি বাদ দেন তো। >> দেখালে সমস্যা কি? এই আম্বিয়া দেখ তো আমিও দেখব। রাশেদ বাবাজি রাগ কই না। কইলাম বৌমা দেখ রাশেদ বাবাজি তখন শুধুমাত্র আঙ্গুল চুষতো। ওই যে দেখো মুখের মধ্যে আঙ্গুল দিয়ে রাখছে। >> চাচি হইছে তো এসব বাদ দেন না এসব ভাল

24:25 লাগতেছে না। >> আরে কি কও? এহনো তো আসল ছবিখানাই দেখানো হয় নাই। ভাবি মনে আছে আকিকার সময় যে তুলছিলা এই বৌমা দেখো। এই যে তোমার স্বামী আর তোমার স্বামীর বয়স সাত দিন। দেখছো? হায় আল্লাহ চাচিমা রাশেদের গায়ে জামা কাপড় নাই কেন? >> হইছে কি বৌমা? একটু আগেই রাশিদ বাবাজি তখন আমার কোলে মুইতা দিছে। আমি জামা কাপড় পালটাইতেছিলাম তখন ভাবি ছবিটা তুলে ফালাইছে। >> এইজন্যই তো স্মৃতি আছে। দেখছি তুমি মানুষের গায়ে টুকি করে দিতা। >> চাচি আপনার কোন কমন সেন্স নেই। কোন

25:10 কান্ডজ্ঞান নেই। আমার বউর সামনে এটা বলা দরকার ছিল। দিলেন তো আমার প্যাসেজ পাংচার করে। আরে সিরিস বাবাজি আস শরম পাই না >> আমবিয়া বৌমার আর মজিদ ভাইয়ের বিয়ে >> না না আমি রাশেদ বাবাজির আরো ছবি দেখাই কিন্তু বৌমা তুমি যে বললা আমগো রাশেদ বাবাজির নাক চোখ সুন্দর না কত সুন্দর দেখ তুমি >> চাচিমা সিরিয়াসলি নিয়ে নিছেন আমি একটু মজা করছি >> ওকে চেতালাম দেখ চোখগুলি কত গোল গোল গুল গুল্লির মতো এটাকে

26:00 কি ব্যাপার? তুমি আমার দিকে এইভাবে তাকিয়ে আছো কেন? >> তো কিভাবে তাকিয়ে থাকবো? চাচির সাথে তুমি এরকম বাজে বিহেভ কেন করলা? এরকম অতিরিক্ত আদর আল্লাহ তো আমার একদম পছন্দ না। আচ্ছা আমার ছোটবেলার ছবি তোমাকে দেখানোর কোন দরকার ছিল? আমি নিজেই তো তোমাকে দেখাই নাই। আমি যে বড় হইছি এটা তারা বুঝতেই চায় না। তারা ভাবে আমি এখনো ছোট আছি। >> ওনারা তোমার বাবা মায়ের মতন। বাবা-মায়ের কাছে সন্তান কোনদিন বড় হয় না। আর তাছাড়া ছবিগুলো তো আমি দেখতে চেয়েছিলাম। কারণ আমি কিউরিয়াস ছিলাম তোমার ছোটবেলার ছবি দেখার জন্য। দেখো আমার যতদূর মনে হয়েছে তোমার চাচা চাচি খুবই ভালো মানুষ। ওনাদের সঙ্গে এরকম আর বাজে বিহেভ করবা না প্লিজ। আচ্ছা ঠিক আছে করবো না কিন্তু তোমার এই রাগ মুখটা আমার একদম পছন্দ না তোমার হাসি মুখটাই আমার পছন্দ >> থাকছি আচ্ছা আমরা যে গ্রামে আসলাম তুমি আমাকে

26:46 একটু গ্রামটা ঘুরে দেখাবা না >> গ্রামে কি ঘুরে দেখবা গ্রামে দেখার মতো কিছু নাই >> কেন গ্রামের সবুজ শ্যামল গাছপালা নদীনালা আশেপাশে গ্রামীণ পরিবেশ এগুলা ঘুরে ঘুরে দেখবো আমি তো কোন সময় গ্রামে আসি নাই আমার এগুলো দেখার না খুব ইচ্ছা >> আচ্ছা ঠিক আছে কালকে তোমাকে আমার ফুপির বাসায় নিয়ে যাব ফুপির সাথে দেখা হয়ে যাবে। গ্রামটা ঘুরে দেখা হবে। >> ওকে ডান। কালকে তাহলে ফুপির বাসায় যাচ্ছি। >> এখন খুশি? >> একটুখান।

28:00 ওপো পুপু >> আরে বাবারে আসেন এতদিন পর আইলি এতদিন পর বুপুর কথা মনে হইল কেমনে তুই আমারে আস >> ভালো আছো >> ডাকে নিয়ে আসছি দেখো >> বৌমা দেখছো বৌমার এদিকে কেমন আছো মা ওরে আল্লাহ কথা কইবা না ভিতর নিবা ঘরে চল ঘরে চল বাবার আশেক তুই কেমনে আমারে ভুইলা থাকলি হ্যা একবারও গিয়ে এই ফুপুর কথা তোর মনে হয় নাই বিয়া করছস এই খবরটা আমারে দেস নাই তুই কেমনে পারলি কেমনে পারলি তোর একমাত্র

28:47 ফুপুরে ভুইলা থাকতে >> ফুপু তোমাকে ভুলবো কেন তোমাকে ভুলি নাই থাকি তো অনেক দূরে ঢাকাতে গ্রামেও আসা হয় না তোমাদের সাথে দেখাও হয় না তবে শুনেছি তোমরা নাকি আমাদের বাড়ি বাড়িতে যাও না কোন কিছু নিয়ে রাগ করে আছো নাকি >> তোমার আব্বা আম্মা যেই ঘটনা ঘটায় রাখছে রাগ না হয়ে উপায় আছে নাকি >> মানে বুঝলাম না ফুপা আব্বা আম্মা কি ঘটনা ঘটাইছে >> কি ঘটনা ঘটাইছে তো কিছুই জানো না >> না তো আমি তো আসলে কিছু জানিনা কি হইছে বলেন তো >> আহা বাদ দাও না রাশেদ যেহেতু এই ব্যাপারে কিছু জানে না মানে তার বাপে কি করছে কিছু জানে না তারে আর জানার দরকারও নাই >> দরকার আছে রেশমা রাশেদ বড় হইছে বিয়ে শাদী করছে এখন এখন তো আর সবকিছু জানা দরকার। রাশেদ শোনো তুমি যে তোমার ফুপুরে

29:34 তোমগো বাড়ি যাইবার কইতাছো কই যাইবো? তোমগো বাড়ি ভিটা কোন কিছু তো তুমগো নাই। >> মানে বাড়ি ভিটা কোন কিছু আমাদের নাই মানে? >> ওমা এটা তুমি জানো না। >> তোমার আব্বায় মসজিদ আর আম্বিয়ার নামে সবকিছু লিখে দিছে। >> কি বলেন ফুপা? ভিটাবাড়ি আব্বা কেন চাচা চাচি নামে লিখে দিবে? না না আপনার কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। >> আমি জানি তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবা না। আচ্ছা আমার কথা বিশ্বাস না হলে তোমার ফুফুরে জিগাও। >> ফুপু বাবা কি বলতেছে এসব? >> 100% সত্যি তোর বাবা সত্যি কথা কইছে। তোর আব্বা আমগো বিটা বাড়ি সব আময়া মসজিদে আমি লেখা দিছি। >> আমি কত অনুরোধ করছি। পায়ে পর্যন্ত পড়ছি। ভাইজান গো এই সর্বনাশ কইরেন না। আপনি সব বন্দি লেইখা দিয়েন না। আমার কথা শুনলো না।

30:21 সব লেইখা দিছে। এর লেগে। এর লাইগা আমি রাগ কইরা বাপের বাড়িতে যাই না। মানে তোগো বাড়িতে যাই না। একটা কথা মনে রাখতো। তুই একটা কথা ক আমি সম্পত্তির মালিক না। আমার হক নাই বাপের বাড়িতে। আমিও তো পাই। সম্পত্তি পাই না। কি করছে তোর বাপে? আমার হক নষ্ট করছে। তোর হকও নষ্ট করছে। আমার তো একটা বাপের বাড়ি চিহ্ন আছিল। আমি কই যামু? কার কাছে যামু? আছে আমার আপন লোক। >> কিন্তু আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। আব্বা কেন চাচা চাচিকে বিড়াবাড়ি লিখে দিবে? >> ওমা কি লেগে লেখা দিব তুই বুঝস না? আরে আমার ভাই ভাবি মানে তোর আব্বা আম্মা তার হইল সহ সরল তারে ভুলায়া ভালাইয়া ভালা ভালা রান্দাবাড়া খাওয়াইয়া আদ যত্ন কইরা মনডারে গলা লাইছে। তারপরে সব সম্পত্তি তোর বাপে লেখা দিছে। আরে মসজিদের বউ আম্বিয়া মজুদ

31:09 এরা যে কত নাটকবাজ এ তোর আব্বা বুঝতে পারে নাই। কপাল পড়ছে, আমারেও পড়ছে, তোরও পড়ছে। >> চিন্তা কইরা দেহো। >> তোমার আব্বায় কত বড় একটা ভুল করছে। আরে এসব বাড়ি ভিটা যা কিছু আছে কিছুদিন পর তো তুমি মালিক হইতা। অথচ দেখো এই ছোট লোকের বাচ্চারা তোমার আব্বারে আর আম্মারে ভুলাইয়া সবকিছু নিছে। >> ফুপা কিছু মনে না করলে আমি একটা কথা বলি। মানে বড় ভাই ছোট ভাইকে সম্পত্তি দিয়েছে। এখানে আবার ভুলিয়ে ফেলিয়ে নেয়ার কি আছে? >> মজির চাচা আমার বাবার আপন ভাই না। আপন ভাই না মানে তাহলে কেমন ভাই? >> কোন ভাই না। উনারা আমাদের বাড়ির কাজের লোক। আমাদের বাড়ির কেয়ার টেকার। অনেক আগে থেকে আমাদের বাড়িতে কাজ করতো। আমাদের দেখাশোনা করতো। এজন্য তাদেরকে সম্মান দিয়ে চাচা চাচি বলতাম। কিন্তু তারা যদি

31:58 আমার বাবার কাছ থেকে ভুলিয়ে ভালিয়ে সম্পত্তি নিয়ে থাকে তাদের এত সহজে আমি হজম করতে দিব না। কার ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিব? >> উচিত কাম হইব। একদম উচিত কাম হইব। তোর আব্বা আম্মা তো তারারে বান্দার মত লাই দিয়া মাথায় তুলছে। তোর উচিত হইলো মাথার থেকে আতর দিয়ে মাটি ফালায় দেন। মিশাই দেওন। আমার বাপের বাড়ি আমারে তুই কদর ফিরাইয়া দে। নাই। আমার বাপের বাড়ি নাই দিয়া দিছে সব। >> শোনো তুমি মাথা গরম করো না। এই ব্যাপারটা নিয়ে আগে বাবা মার সাথে কথা বলো। এরপরে ডিসিশন নিও। কিরে কিছু বলবি? >> হ্যাঁ বাবা। এই মাটির ঘরটা আর টিনের ঘরটা ভেঙে ফেলতে চাই। এখানে একটা ডুপ্লেক্স

32:45 বাড়ি বানাবো। কারণ টিনের ঘর মাটির ঘর আমাদের সাথে যাচ্ছে না। তুই এই বাড়ি ভেঙ্গে কিভাবে ডুপ্লেক্স বাড়ি বানাবি? এই সম্পত্তি তো আমি তোর চাচাজিকে লিখে দিছি। >> ও তার মানে ফুফু যা বলেছে তা সত্যি। তোমার কি মাথা ঠিক আছে বাবা? তুমি আমাদের দাদার সম্পত্তি, আমাদের সম্পত্তি কেন তাদের নামে লিখে দিছো? দেখ আমরা তো ঢাকায় থাকি। গ্রামে তো আমাদের আসা হয় না। আর এই বাড়িও আমাদের কোন দরকার নাই। সেই জন্য তোর চাচা চাচিকে লিখে দিলাম তাদের একটা স্থায়ী ঠিকানা যাতে হয়। বাবা তারা আমার চাচা চাচি না। বারবার চাচা চাচি বলবে না। তারা সামান্য কেয়ারটেকার। আমাদের বাড়ি দেখে শুনে রাখে। এই বাইরের মানুষকে আমাদের দাদার সম্পত্তি তুমি কেন লিখে দিবে? না

33:30 না। আমি এই সিদ্ধান্ত মানতে পারলাম না। তাদেরকে বলো আমাদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে। >> রাশেদ তুই হঠাৎ করে এসব নিয়ে কেন কথা বলতেছিস? ঢাকা শহরে আমাদের নিজেদের কত ফ্ল্যাট বাড়ি আছে ওগুলা নিয়েই থাক না। এখানকার ভিটাবাড়ি দিয়ে কি করবি? আর তোর বাবা যখন তোর চাচা চাচিকে লিখেই দিয়েছে। তাহলে ওরাই এখানে থাক। >> আমার দাদার সম্পত্তি আমি বাইরের কাউকে ভোগ করতে দিব না। এইসব ব্যাপার নিয়ে কি তুমি তাদের সাথে কথা বলবে নাকি আমি কথা বলব? এই সম্পত্তি আমার বাবার মানে আমার আমার সম্পত্তি আমি যাকে খুশি তাকে দেব এটা নিয়ে কথা বলার তুই কে >> তুমি মনে হয় ভুলে গেছো বাবা আমি এই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী না ভুলি নাই আমি মারা গেলে তুই এই

34:16 সম্পত্তি পাবি আর আমি এখন জীবিত আমি জীবিত অবস্থায় আমার সম্পত্তি আমি যাকে খুশি তাকে দেব এইটা নিয়ে কোন কথা বলার দরকার নাই জুলেখা এই বিষয় নিয়ে আমি এই বাড়িতে আর কোন কথা শুনতে চাই না আমি একটু বাইরে গেলাম। >> আচ্ছা বাবা তার সম্পত্তি যাকে খুশি তাকে দিয়েছে। এটা নিয়ে তুমি মাথা গরম করো না। >> বাবা সম্পত্তি দেয়নি। তারা ছলে বলে কৌশলে বাবার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নিয়েছে। এবং এই সম্পত্তি কিভাবে আদায় করতে হয় আমি খুব ভালো করেই জানি।

35:08 কি হইছে বাবা? >> খবরদার আপনি আমাকে বাবা বলবেন না। আপনার মত ভন্ড বাটপার লোভী মহিলার মুখে বাবা ডাক মানায় না। >> আমরা কি করছি রাশেদ বাবাজি? ও কি করেছেন সেটাই জানেন না। আপনাদের কত বড় সাহস আপনারা আমার বাবাকে ভুলে ভালিয়ে আমাদের ভিটাবাড়ির সব সম্পত্তি লিখে নিয়েছেন। না বাবা বিশ্বাস করো আমরা এটা নিতে চাই নাই। >> তোমার বাবা মা আমাদেরকে লিখে দিচ্ছে। >> খবরদার একদম মিথ্যা কথা বলবেন না। আমরা এই বাড়িতে আসার পর থেকে আপনারা যে আমাদেরকে খাতির যত্ন করছেন, রান্না করে দিচ্ছেন, মুখে ধরে খাওয়াচ্ছেন এসব কিছু নাটক। আর এই নাটক করে আমার বাবা-মাকে পটিয়ে আমাদের ভিটাবাড়ির সম্পত্তিটা লিখে নিয়েছেন তাই না? ছি ছি ছি ছি আপনারা কি ভুলে গেছেন

35:54 আপনারা এই বাড়ির চাকর বাকর আমাদেরটা খেয়ে আমাদেরটা পড়ে আমাদের সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন তাই না? >> রাশেদ খবরদার তোর চাচা চাচির নামে একটা বাজে কথা বলবি না। তাইলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে। তোর চাচা চাচি আমাদের কাছে কিছু চায় নাই। জোরও করে নাই। আমি আর তোর বাবা মিলে ইচ্ছা করে আমাদের ভিটা বাড়ি খোদের নামে লিখে দিছি এগুলা নিয়ে কোন বাজে কথা বলিস না একদম না >> রাশেদ আর কথা বাড়িও না চলো ঘরে চল >> তুমি ছাড়ো আমাকে আমার তো মনে হয় এই দুজন আমার বাবা মাকে তাবিজ করেছে এজন্য এখনো আমার মা তাদের পক্ষে কথা বলছে এসব গরীব অশিক্ষিত মূর্খদের লাই দিয়ে মাথায় তোলা উচিত হয়নি রাশেদ বাবাজি তুমি ঠিক কথা কইছো

36:39 আমরা গরিব অশিক্ষিত মূর্খ সুরক্ষ গ্রামের মানুষ কিন্তু বাবাজি তোমগরে তাবিজ কবজ আমরা করি নাই তোমরা আমগো আপন মানুষ আপন মানুষের তাবিজ কবজ করন লাগে না তুমি আমগরে ভুল বুঝতেছো বাবাজি এই যে সয়সম্পত্তি তোমার আব্বা আম্মা তারা সইচ্ছায় আমগরে রাইখা দিছিলেন তবে রাশেদ বাবা তুমি যদি চাও এই মুহূর্তে সব সম্পত্তি তোমার নামে আমরা লেখা দিমু >> না আময়া এই ভিটাবাড়ি আমরা তোমার আর মজিদ ভাইয়ের নামে লিখে দিছি এইটা নিয়ে তুমি কোন কথা বইলো না রাশেদ তুই ঘরে যা আর একটা কথা

37:25 বলবি না >> মা তুমি আমাকে মাফ করো আমি তোমার কথা রাখতে পারলাম না এইযে আপনারা দুজন কান খুলে শুনে রাখুন এসব মায়া কান্নার নাটক আমার সামনে করবেন না আমার বাবা আপনাদের সম্পত্তি লিখে দিলেও আমি এটা মানি না কারণ এই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী আমি কালকের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন আপনাদের মত চাকর বাকর আমার কোন দরকার নেই। যাওয়ার আগে দলিলটা আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে যাবেন। নয়তো থাক দুইটাকে বাড়ি থেকে বের করে দিব। আম্বিয়া তুমি তুমি মনের কষ্ট নিও না মজিদ ভাই আপনি মন খারাপ কইরেন না আমার ছেলেরে নিশ্চয় কেউ উল্টাপাল্টা কিছু বুঝাইছে তা না হলে তো আমার রাশেদ এসব কথা বলা বলতো না এসব কথা

38:13 বলতো না তুমি আমাদেরকে মাফ মাফ করে দি মাফ করে দেন >> চাচি আপনি কোথাও যয়েন না আমি রাশেদকে বুঝাবো আমি বুঝালে ও বুঝবে >> মাগো তুমি অনেক লক্ষী একটা মানুষ তুমি কাইন্দো নাও অনেক কষ্ট পাইও না তোমার রাশেদরে বুঝাইতে হইব না তুমি ভালো থাইকো মা ভালো থাইকো দোয়া দিলাম ভালো থাইকো >> যাও মা ঘরে যাও >> তুমি যাও ঘরে নিয়া যান

39:25 আচ্ছা কন তো আমরা যদি এই বাড়ি ছাইড়া না যাই রাশেদ কি আমগরে গা ধাক্কা দিয়ে বাইর করে দিতে পারবো? পারবো >> পারবো আমবিয়া পারব রাশেদ আমাদের ঘৃণা করে তুমি কি খুব কষ্ট পেছনে >> না কষ্ট পাইনি >> কিন্তু কলিজার ভিতরে কেমন জানি সবকিছু ভাইঙ্গা খান খান হয়ে গেছে >> এই রাশেদরে যে শিশুকাল থেকে এত ভালোবাসলাম আটা শিখাইলাম

40:12 রাশেদের ছোট্ট ছোট্ট দুই আঙ্গুল ধইরা বাবা কও আটি আটি পা যেখানে খুশি সেখানে যা কইছে আমগরে যা যেখানে খুশি সেইখানে যা এই কানের মধ্যে নিয়া ঘুম পাড়ানি মাসি বেশি গান শুনাইতাম আর ঘুম পাড়াইতাম এই বুকটার মধ্যে ঘুমায়া থাকতো গো রাশেদ কত ভালোবাসলাম এই ভালোবাসার কি কোন মূল্য নাই কোন মূল্য নাই নাই রাশেদ তো আমাদের সন্তান না

40:59 >> রাশেদ পরের সন্তান >> পরের সন্তান কখন কখনো আপন হয় না। >> পরের সন্তান কখনো আপন হয় না। >> আচ্ছা কন তো রাশেদের মত আমার একটা সন্তান থাকলো না কেন? হ্যা এই যে রাশেদ আমগরে এত কিছু কইলো। এত অপমান করলো। আমগরে চাকর বাকর কইলো। অশিক্ষিত মূর্খ কত কিছু কইয়া গালিগালাজ করলো। গলা ধাক্কা দিয়া বাইর করে দিতে চাইলো। আমগো একটা নিজের সন্তান থাকলে আজকে তো সে রাশেদের কথার জবাব দিত। হ্যাঁ। আমগোরে আগলায় রাখতো। আমগো একটা সন্তান নাই কেন?

41:46 রাশেদের মত। এই যে আপনে অসুস্থ। এহন আমগো দুইজনরে দেইখা রাখবো কেড? আপনারে দেইখা রাখবো কেড? রাশেদের মত একটা সন্তান থাকলে তো আমগো দুইজনরে চাকরি বাকরি করে খাওয়াইতো। আমগোরে বুকে আগলায় রাখতো। রাখতো না? রাখতো। সন্তান নাই। >> সন্তান নাই কেন আমার? >> নাই কেন? >> এইটার জবাব আমি দিতে পারবো না। মিয়া। আমি শুধু তোমাকে একটা কথাই বলতে পারি। তুমি আমারে মাফ করে দিও।

42:34 মাফ করে দিও আমারে তুমি দিও। >> আপনার মনে কষ্ট পায়েন না। >> রাশেদ খারাপ ছেলে না। ভালো ছেলে কিন্তু ওই ভুল বুঝতে পারব। ও ঠিকই ভুল বুঝব। যে আমগো মধ্যে কোন লোভ আছিল না সহায় সম্পত্তি কোন কিছুই লোভ আছিল না আমরা নিঃস্বার্থভাবে তারে ভালোবাসছি দেখ একদিন ঠিকই বুঝব যে আমগো আদর যত্ন আসল খাটিয়া ছিল সেইদিন রাশেদ ভুল বুঝতে পারবো আপনি দেখেন আপনি কোন কষ্ট পায়েন না কষ্ট কষ্ট না কষ্ট পায়

43:22 আমি তুমি এত কষ্ট আমারে মাফ করে দিও >> কষ্ট তুমি কষ্ট

44:10 আবিয়া দেখো কত বড় ভাত আসছি আজকে তুমি রান্না করবা আমরা সবাই মজা ক খাবো বাইর আম্বিয়া কই? >> আম্বিয়াকে ডেকে আর কোন লাভ নাই। আম্বিয়া আসবে না। আম্বিয়ার মজিদ ভাই এই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। >> বাহ খুব ভালো হয়েছে। এই চাকর বাকর গুলা বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। ঝামেলা মুক্ত হলাম। >> খবরদার রাশেদ। আম্বিয়ার আর মজিদরে কখনো চাকর বাকর বলবি না। জুলেখা মজিদ আর আম্বিয়া বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে কেন? >> কেন আবার? আমরা এই বাড়িঘর ওদের নামে লিখে

44:56 দিছিলাম। সেজন্য রাশেদ ওদেরকে যা মুখে আসছে তাই বলছে। অশিক্ষিত লোভ টাকর বাকর কত কিছু বলে অপমান করছে। এরপর বলছে এই বাড়ি থেকে চলে যাইতে। যদি না যায় তাইলে বলছে ঘা ধাক্কা দিয়া বাইর করে দিবে। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে মজিদ ভাই আর আম্বিয়া এই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। >> বাবা তুমি আমাকে মারলা? আমার ইচ্ছা করতেছে তোরে জানে মাইরা ফালাইতে। তুই যে কত বড় অন্যায় করছিস। কত বড় অপরাধ করছিস। তুই জানিস কার সাথে তুই দুর্ব্যবহার করছিস? কারে তুই চাকর মছিস?

45:43 তারাই তোর বাবা মা। >> মানে এসব কি বলছো বাবা? তারা আমার বাবা মা মানে? হ্যাঁ আমি আর জুলেখা তোর আসল বাপ মায়া তোর গর্ভধারিণী মা আর মজিদ তোর জন্মদাতা পিতা >> বাবা তুমি এসব কি বলছো এসব আমি বিশ্বাস করি না মা বাবা এসব কি বলছে >> তোর আব্বা ঠিকই বলছে রে বাবা আমরা তোর আপন বাবা মা না ওরাই তোর আপন বাবা মা

46:29 কিন্তু রাশেদ আম্বিয়া চাচি আর মজিদ চাচার ছেলে বলে আপনাদেরকে কেন বাবা মা বলে ডাকে আপনাদের সঙ্গে কেন থাকে >> মারে বিয়ের অনেক বছর হয়ে গেল আমাদের কোন সন্তান হয় নাই কত ডাক্তার কবিরাজ দেখাইছি কত ওষুধ খাইছি কিন্তু কোন কিছুতেই কোন কাজ হচ্ছিল না এজন্য আমার শ্বশুর শাশুড়ি আবার উপর খুব বিরক্ত ছিল। ওনারা চাচ্ছিল তোমার শ্বশুরের সাথে আমার তালাক করায় ওনাকে আবার বিয়ে দিতে। আমি রাগে কষ্টে দুঃখে গলায় ফাঁসি দিতে গেছিল।

47:16 আমাকে আম্বিয়া আর মজিদ ভাই বাঁচাইছে। ওরা ওদের কোলের সন্তান। রাশিদকে আমাদের কোলে দিছে। আর বলছে ভাবি আজকে থেকে রাশিদি আপনার সন্তান। আমরা আপনার সংসার ভাঙতে দিব না। ভাবি আপনাকে মরতে দিব না। আমি কি করব কিছু বুঝতেছিলাম না। পরে মজিদ ভাই বলছে যে আমরা কখনো বলবো না রাশেদকে যে আমরাই ওর আসল বাবা মা। রাশেদ সবসময় জানবে যে আপনারাই ওর আসল বাবা মা। আপনাদের আদরে ভালোবাসায় রাশেদ বড় হবে।

48:05 >> মজিদ খুব গরীব ছিল। আমাদের বাসায় কাজ করতো। এখন মনে হইছিল ওর ছেলেরেও সঠিক শিক্ষা দিতে পারবে না। খাওয়াইয়া দাওয়াইয়া মানুষ করতে পারবে না। আর আমাদের কাছে থাকলে রাশেদের খাওয়া দাওয়াও ঠিকমত হবে। আমরা তারে লেখাপড়া শিখায়া মানুষের মত মানুষ করতে পারব। সেজন্য মজিদ আর আব্বিয়া তাদের সমস্ত সত্য ত্যাগ করে আমাদেরকে দিয়া দেয়। তারা তোরে একটু আদর করতে চাইতো। একটু ভালোবাসতে চাইতো তারা গরিব বইলা তাদেরকে তুই চরম অবহেলা করছস আজকে বুঝতে পারছোস

48:52 যাদেরকে তুই গরিব ছোটলোক চাকর বইলা বয়লা করছস অপমান করছস তারাই তোর পিতা-মাতা তাদের রক্তই তোর শরীরে বইতেছে রে আমি যদি পারতাম আমার শরীরের চামড়া দিয়া তারে জুতা বাধায় দিতাম আজকে যদি মজিদ আর আম্বিয়ার কিছু হয় আমি তোরে ক্ষমা করুম না। উপরওয়ালাও তোরে ক্ষমা করবো না। দের

49:51 আপনার শাড়িতে মনে হয় ময়লা আছে সমস্যা হবে প্লিজ আপনার শাড়ি দিয়ে কখনো আমার মুখ মুচবেন না >> আপনার হাত কি পরিষ্কার নিজে হাতে খাচ্ছেন সেই হাত দিয়ে আমাকে খাওয়াতে আসছেন এসব সস্তা শাড়িতে কাউকে সুন্দর লাগে তোমাকে বাজে লাগছে বৃষ্টি লাগছে গ্রামের গরীব মহিলাদের মত লাগছে গ্রামের মানুষ যদি দেখে যে আমার বউ এরকম সস্তা শাড়ি পড়ে আছে আমার মান সম্মান থাকবে কালকের মত এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন আপনাদের মত চাকর বাগড় আমারও কোন দরকার নেই যাওয়ার আগে দলিলটা আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে যাবেন নয়তো ধারাক্কা দিয়ে দুইটাকে বাড়ি থেকে বের করে দিব না

50:47 নাবিলা আমি আসলে মানুষ না আমি একটা পশু যে মা আমাকে গর্ভে ধারণ করেছে আমাকে দুনিয়ার মুখ দেখিয়েছে। সেই জন্মদাতা মা-বাবাকে আমি অপমান করেছি। তারা আমাকে একটু আদর করতে চাইতো। আমি বিরক্ত হতাম। আমার মা আমার গায়ের ঘাম মুছে দিতে চেয়েছিল। তাকে সে সুযোগ আমি দেই নাই। আমার বাবা আমাকে একটু জরায় ধরতে চাইছিল।

51:34 আমি নোংরা বলে তাকে দূরে সরায় দিচ্ছি। কতটা কষ্ট দিয়েছি তাদের। আমি এখন বুঝতে পারছি তারা কতটা আঘাত পেয়েছে। যে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে তারা। মন খারাপ করো না। তুমি তো জানতা না যে তারা তোমার বাবা মা। কিন্তু এখন যদি ওনাদের বড় কোন বিপদ হয়ে যায় তুমি সারা জীবন নিজেকে ক্ষমা করতে পারবা না। তুমি ওনাদেরকে খুঁজে বের করো। ওনাদের কাছে মাফ চাও। তারপর তারপর ওনাদেরকে বাড়িতে নিয়ে আসো।

52:20 আমি আমার বাবা মাকে যে অপমান করেছি আমি কিভাবে তাদের সামনে যাব? তারা কি আমাকে মাফ করবে? এখন সন্তান যত বড় অন্যায় করুক না কেন বাবা মা সেটা মনে রাখে না। সন্তানকে ক্ষমা করে দেয়। তুমি তাদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলে তারা তোমাকে ক্ষমা করে দিবে। তুমি আর দেরি করো না। তোমার বাবা আমাকে খুঁজে বের কর। ও

53:20 চাচা চাচা >> কি ওই পারে যাইবা যান >> না না আমি যাব না আচ্ছা আপনি কি মজিদ চাচা আর আম্বিয়া চাচিকে আজকে নদী পার হতে দেখেছেন >> না আমি তো এই নদীঘাটে সারাদিন বইসা রইছি তোমার চাচারে আর চাচিরে তো ওই পারে যাইতে দেখি নাই >> ও তার মানে গ্রামে আছে বুবু কিরে কিছে >> আচ্ছা ওই মজিদ চাচা আর আম্বিয়া চাচি কি তোমাদের বাসায় এসছে >> না আসে নাই তো কি ওমা কিছু তো কয়ে গেল না >> এই কি ব্যাপারে আসছিল >> চলে গেল কে >> কি জানি কিছু তো বুঝতেছি না

54:07 >> আচ্ছা ভাইয়া আপনারা কি মজি চাচাকে দেখেছেন >> না তো এখানে আসে নাই আল্লাহ এহন এহন কি একটু ভাল লাগতাছে

54:54 উঠতে পারবেন বাবা রাশেদ তোমার আমার চাচা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেছে। হাটতে পারতাছে না। একটু উইঠা খাড়াইতে পারলেই আমরা এই গ্রাম ছাইড়া চইলা যামু। তুমি চিন্তা কইরো না। >> মা। >> ও

55:45 বাবার রাশেদ তুমি আমারে মা কয়ে ডাকতেছো কেন? কারণ তুমি আমার মা। >> আর তুমি আমার বাবা। >> এসব কথা তুমি কি বলতেছো রাসেদ? না না না না আমরা তোমার বাবা মা না তো ভাই আর ভাবি তোমার বাবা মা তোমাদেরকে বাসা থেকে অপমান করে বের করে দেওয়ার পর আমি সব সত্য জেনে গেছি আমার বাবা আমাকে সব বলে দিছে

56:33 তারা আমার আসল বাবা মা না তোমরাই আমার আসল বাবা অথচ আমি তোমাদের সাথে কি খারাপ ব্যবহার করেছি কত অপমান করেছি তোমাদেরকে তোমাদেরকে ছোট লোক গরীব লোভী কত কিছু বলেছি মা আমাকে মাফ করে দাও বাবা আমাকে মাফ করে দাও তোমরা না আমাকে আদর করতে চেয়েছিলে মা আমাকে একটু আদর করবা না বাবা তুমি না আমাকে জড়া ধরতে চাইছিলা একটু জড়া ধরো না বাবা

57:21 ও সন্তান আমার সন্তানরে আমার ছোট্ট রাশি চট্টরাশিরে বাবা আমাকে একটু জরায় ধরবা না বাবা বাবা এই বাপ ডাকটা শোনার জন্য আমি এক কথা সময় বাবা

58:10 আমারে মাফ করে দিস রে বাবা মন ভরে গেছে বাবা >> তোমরা আমাকে বলো নাই কেন তোমরা যে আমার বাবা মা আমাকে কেন বাবা মার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করছো তোমরা সব দোষ আমার রে বাবা সব দোষ আমার আমি আমি তোর মার কাছ থেকে তার বুকের ধন্ডে আমি নিয়ে

58:55 আমি ধরে দিছি ওর মা পাগলের মত হয়ে গেছিল আমি আমার ভাই ভাবির সংসার টিকাইছি আমার ভাবীরে বাচাইছি আমার দোষরে বাবা আমি আমি একটা মার সন্তান তার বুকের ধন তাকে আমি মার থেকে বঞ্চিত করছি রে বাবা একটা ছেলেকে তার মার থেকে দূরে রাখছি রে বাবা বাবা রাশেদ

59:41 জানো যেদিন আমার ছোট্ট রাশেদরে তোমার আব্বায় ভাইজান ভাবির লগে দিয়া দিল আমি চাইয়া রইলাম হইছে আমার রাশেদ যাইতাছে গা হইছে আমার সন্তান জায়গা আমি না কাটা মুরগির মত গাড়িতে আফড়াইছি রে বাপ আমার সন্তান কই গো নাই আমার রাশেদ সারাক্ষণ খালি মনে হইতো এই যে মনে হয় আমার রাশেদ ধরুর কইরা আমাগুরি দিয়া আমার কাছে আইতাছে আমি এইরকম কইরা নাহ কেউ নাই কেউ নাই আবার মনে হইতো এদিক দিয়া মনে হয় আমার রাশেদে এই যে আমার রাশেদ আমার কাছে আইতাছে নাই সারাক্ষণ সারাক্ষণ খালি দাঁপড়াইতাম গো বাপ

1:00:29 তোমার ছবি ছোট্ট বেলার ছবি লইয়া চাইয়া থাকতাম আর তোর ছবি বুকে নিয়া খালি াপড়াইতাম রে জানোস রে বাপ তারপরে তারপরে বাপ যহন ভাই ভাইজান ভাবির সাথে আইলা আমি ছায়া দেহি ও আল্লাহ এইডা কেডা এত বড় রাজপুত্র একটা খাঁড়ায় রইছে যখন জানলাম ওইডা আমার রাশেদ মনে জোরে যাইয়া ঝাপটা ধরে বুকের মধ্যে গো আমার রাশেদ এত বড় হইছে পারলাম না তোমারে ছুইতে পারলাম না আদর করতে পারলাম না আরে কি আকার গো বাবা মায়ের মনের কি আহাকার আমার সন্তান খাড়ায়া রইছে

1:01:17 সামনে আমি তারে আদর করতে পারতাছি না আরে অনেক হাকার অনেক খোদা বাবা একটাবার আরেকটা বার মা কইয়া ডাকবা আমগো দুইজনের একটাই খিদা খালি মা বাপ ডাক শুননের আরেকটাবার ডাক দিবা বাবা মা বাবা আজকে আমি আজকে আমি আমার রাশেদ আমারে পাগ করে ডাকছে আমার রাশেদ আমারে মা কই ডাকছে। আমারে মা বলো না।

1:02:05 আমার আব্বা বৌমা বৌমা মাগো। আমারে মা কই ডাক গো মা। আমার আর কোন আকার নাই। আর কোন আকার নাই >> ভাইজান ভাবি রাশেদ রাশেদ আপনাগো সন্তান। আমরা খালি রাশেদরে মাঝে মাঝে দেখুম। >> ভাই আমরা তো আমাদের সন্তানকে তোমার কাছে দিয়েই দিছিলাম। আমার এই সন্তান কিন্তু তোমারই এখন রাশেদের

1:02:50 উপর তোমাদের অধিকার আমরা তো অধিকার ছেড়ে দিছি মুজিব অধিকার দিয়া দিলেই কি হয়ে যায় সন্তান তো সন্তানই আর তাছাড়া রাশেদ এখন থেকে আমাগো দুই পরিবারেরই সন্তান আমরা একসাথে থাকো কি ক রাশেদ তুই না এই পুরান বাড়ি ভাইঙ্গা বিল্ডিং বানাইতে চাইলে বানায় ফেলা বাবা আমরা দুই পরিবার এইখানে একসাথেই থাকুক তোর সাথে থাকে >> ভাইজান ভাবি রাশিদ মাঝে মাঝে আমারে মা কয়ে ডাকবো না >> সবসময় ডাক ভাই ভাই সবসময় ডাকব

Share

YouTube Video Summaries