0:00 গোটা সৌদি আরবের প্রায় 82% এরিয়া খালি পড়ে আছে। শুধুমাত্র এই জায়গাটুকুর ভেতরেই সৌদি আরবের প্রায় 4 কোটি মানুষ বসবাস করে। জিডিপি এবং এরিয়া ওয়াইজ সৌদি আরব গল্ফ কান্ট্রিগুলোর মধ্যে সবথেকে বড় দেশ। আর আয়তনের দিক থেকেও সৌদি আরব পৃথিবীরথ লার্জেস্ট কান্ট্রি। কিন্তু তারপরেও সৌদি আরবের প্রায় 85% পপুলেশন এই দুটো হাইলাইটেড এরিয়ার মধ্যে থাকে। তাছাড়াও অদ্ভুত ব্যাপার হলো এখানকার পপুলেশন খুবই কম। সৌদি আরবের মত একটা ডেভলপড কান্ট্রি। তাদের জনসংখ্যা মাত্র 4 কোটি। প্রশ্ন হলো কেন? এর পেছনে রহস্যটা কি? তো বন্ধুরা আমি রয়েছি মিঠুন আপনাদের সাথে। আর আপনারা দেখছেন রোমাঞ্চ পিডিয়া YouTube চ্যানেল। ভিডিও শুরু করার আগে আপনাদের জন্য একটা ছোট্ট রিকোয়েস্ট রইলো। এই ভিডিওগুলো বানাতে আমার এবং আমার টিমকে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। তাই অবশ্যই একটা
0:46 করে লাইক করে দেবেন। আর ভিডিওর মাঝখানে একটা প্রমোশন রয়েছে। যেখানে আপনাদের আর্থিক ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অনুরোধ করব এই ধরনের অপ্লিকেশন ডাউনলোড করবেন না। এগুলো শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন আমাদের চ্যানেল সাস্টেইন এর জন্য করতে হয়। সৌদি আরবের জনগণ কেন ওই অদ্ভুত প্যাটার্নের মধ্যে বসবাস করে সেই ব্যাপারে জানতে গেলে আমাদেরকে জানতে হবে সৌদি আরবের ইতিহাস এবং এখানকার জিওগ্রাফির ব্যাপারে। সৌদি আরব আয়তনে এতটাই বড় যে রাশিয়াকে বাদ দিলে গোটা ইউরোপ এখানে আরামস সেট হয়ে যাবে। দেশটার মোট জনসংখ্যা প্রায়চার কোটি। তবেই চার কোটি জনগণই কিন্তু সৌদি আরবের সিটিজেন নয়। এখানে বাইরের দেশেরও বহু মানুষ এসে থাকেন। 1970 সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে মোট জনসংখ্যা ছিল 61 লক্ষ। বর্তমানে সৌদি আরবে যে চার কোটি জনগণ বসবাস করেন এরা প্রথম থেকে এখানে ছিল না। এরা ভারত, পাকিস্তান,
1:32 আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়া সহ অন্যান্য দেশগুলো থেকে বিগত 40 থেকে 50 বছরের মধ্যে এখানে এসেছে। এখানে আপনার মনে একটা প্রশ্ন আসতে পারে যেখানে বিগত কয়েক হাজার বছর ধরে সৌদি আরবের জনগণ 50 লক্ষ পার করতে পারেনি। সেখানে মাত্র কিভাবে 40 থেকে 50 বছরের মধ্যে এখানের জনসংখ্যা 4 কোটি পার করে গেল। আর সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটা সেটা আমাকেও ভাবায় সেটা হচ্ছে প্রথম থেকেই সৌদি আরবের জনসংখ্যা এত কম কেন ছিল এর একটা বড় কারণ হলো সৌদি আরবের খারাপ ভৌগোলিক অবস্থান আপনি যদি সৌদি আরবের ম্যাপটা লক্ষ্য করেন তাহলে দেখতে পাবেন এখানে চারিদিকেই রয়েছে শুধু বড় বড় মরুভূমি যেমন সৌদি আরবের উত্তরদিকে জর্ডান আর ইরানের বর্ডারের একদম পাশেই আছে আল নাফুদ মরুভূমি আর দেশটার দক্ষিণে রয়েছে বিশালাকার রাবাল খালি মরুভূমি এই মরুভূমিটাকে ইংরেজিতে দ এমটি কোয়ার্টারও
2:19 বলা হয় এইযে যে পুরো এরিয়াটা দেখছেন এখানে না আছে কোন ইনফ্রাস্ট্রাকচার না আছে রাস্তা রেললাইন ঘরবাড়ি কিছুই নেই এই পুরো এরিয়াটা খালি পড়ে আছে তাই এটাকে বলা হয় দ্যা এমটি কোয়ার্টার এখানে গরমের সময় তাপমাত্রা চলে যায় 55 ডিগ্রি সেলসিয়াস আর শীতকালে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস সে ডিগ্রিতে মানে এক্সট্রিম গরম আর এক্সট্রিম ঠান্ডা এই আবহাওয়াতে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা এক প্রকার ইমপসিবল এছাড়াও এখানে মাঝে মাঝেই বিশাল আকার বালির ঝড় ওঠে এই ঝড়ের কবলে পড়লে বাচার চান্স খুবই কম। এই মরুভূমি সৌদি আরবের ট্রেডের জন্যও কিন্তু একটা বড় সমস্যা। কারণ এই মরুভূমিটা এতটাই দুর্গম যে 1931 সালের আগে পর্যন্ত কোন মানুষ এটাকে ক্রস করতে পারেনি। 1931 সালে মার্ক ইভন্স নামে একজন ব্রিটিশ এক্সপ্লোরার কয়েকজন লোকাল আরবিকে সাথে
3:07 নিয়ে 60 দিনে এই মরুভূমিটা ক্রস করেছিলেন। সৌদি আরবের ম্যাপটা ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে সৌদি আরবের বর্ডার ওমানের সাথে শেয়ার করছেন। কিন্তু শুধুমাত্র এই মরুভূমির জন্য সৌদি আরব থেকে বাই রোড ওমানে যেতে হলে আপনাকে প্রায় কুড়ি ঘন্টা ড্রাইভ করে ইউএ দিয়ে ঘুরে যেতে হবে। কিন্তু ফাইনালি 2016 সালে এই মরুভূমির ভেতর থেকে একটা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। যেটা সরাসরি সৌদি আরব এবং ওমানকে কানেক্ট করেছে। সৌদি আরবের খারাপ জিওগ্রাফির একটা কারণ তো হলো এই রাব আল খালি মরুভূমি। কিন্তু এর পরের যে পার্টটা আছে সেটা আরো বেশি ইন্টারেস্টিং। আপনি জানলে অবাক হবেন যে সৌদি আরব পৃথিবীর এমন একটা দেশ যেখানে কোন স্থায়ী নদী নেই। তবে শুধুমাত্র সৌদি আরব নয়, ইয়েমেন, ওমান, ইউএই, কাতার, কুয়েত, বাহরিন এ সবকটা দেশেই কোন পারমানেন্ট নদী নেই। পুরো আরবের
3:54 মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। সৌদি আরব আর ইয়েমেনের এই পশ্চিম উপকূল বরাবর। তাই আয়তনে ছোট হলেও ইয়েমেনের জনসংখ্যা ওমান, কাতার এবং ইউএইর মতো ধনী দেশগুলোর তুলনায় অনেকটাই বেশি। আর এই কারণেই ইয়েমেনে যে বছরের পর বছর ধরে সিভিল ওয়ার চলছে তার ক্ষতিকর প্রভাব সৌদি আরবের উপরও পড়ছে। এবার আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন যে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ হচ্ছে তার প্রভাব কেন সৌদি আরবে পড়বে? এর উত্তরটাও লুকিয়ে রয়েছে ম্যাপের ভিতরে। ইয়েমেন আর সৌদি আরবের মাঝখানে রয়েছে রাব আল খালি মরুভূমি। দেখুন ওমানের সাথে সৌদি আরবের শত্রুতার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এই দুটো দেশের মাঝখানে রয়েছে রাব আল খালি মরুভূমি। এই মরুভূমিটা এতটাই ভয়ঙ্কর যে এটাকে ক্রস করে কোন ইল্লিগাল ইমিগ্রেন্ট সৌদি আরবে ঢুকবে এটা একেবারে অসম্ভব। আর
4:41 এই মরুভূমিটার জন্যই ইজিলি ওমান কখনো সৌদি আরবের উপর অটাক করতে পারবে না। কিন্তু সৌদি আরবের সবচেয়ে যে পপুলেটেড এরিয়া রয়েছে মানে যেটাই ব্লু লাইন বরাবর রয়েছে সেটা ইয়েমেন বর্ডারের একদম পাশেই অবস্থিত। আবার এই এরিয়াতেই ইয়েমেনের সবথেকে বেশি পপুলেশন বসবাস করে। তাই যখনই ইয়েমেনের সিভিল ওয়ার শুরু হয় তখন সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের বর্ডারেও হাই অ্যালার্ট জারি থাকে। আর এখান থেকে সৌদি আরবে মিসাইল অটাক করাও হুতিসদের জন্য অনেকটা সহজ হয়ে যায়। ইভেন আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন সৌদি আরবে যে সমস্ত ফেমাস শহরগুলো রয়েছে যেমন মক্কা, মদিনা, রিয়াদ, জেডা, দামাম এই সবগুলো এই একই লাইন বরাবর রয়েছে। মক্কা, মদিনা এবং জেডার লোকেশনের পেছনেও হাজার হাজার বছরের ইতিহাস এবং স্ট্রাটেজিক রিজনও রয়েছে। আপনি দেখতে পাবেন আরবের
5:27 দুটো ফেমাস শহর জেডা এবং মক্কা রেড সির একদম পাশেই রয়েছে। প্রাচীন আরবের যে ব্যবসায়ীরা ছিল তারা জেডা এবং মক্কার রাস্তা হয়ে সমুদ্রপথে জাহাজে করে ভারত, পূর্ব আফ্রিকা, ইরান এবং মিশর সহ অন্যান্য দেশগুলোতে বাণিজ্য করতে যেত। আর গোটা বিশ্বের ট্রেডারদের কাছে সেই সময় এবং এখনো জিরা এবং মক্কার গুরুত্ব অনেক বেশি। জিরা শহরটা ইকোনমিক্যালি পুরো আরব ওয়ার্ল্ড একটা স্ট্রং পজিশন হোল্ড করে। মক্কা শহরের উত্তর দিকে যে জায়গাটা রয়েছে এটা পুরোটাই একটা পাহাড়ি এরিয়া। আর এই পাহাড়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাইফ শহর। তাইফ শহর চারিদিক থেকে পাহাড় এবং সবুজ জঙ্গলে ঘেরা। শহরটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আবহাওয়া দুটোই ভীষণ সুন্দর। বহু বছর আগে থেকেই আরবের ধনী মানুষেরা এই জায়গায় আসতেন ছুটি কাটাতে। এটা একটা হিল
6:13 স্টেশন। আরবের ব্যবসা গরমের মধ্যেও এই শহরের পরিবেশ দারুণ ঠান্ডা। কিন্তু যেখান থেকে তাইব শহরের পাহাড়ি এলাকা শেষ হচ্ছে সেখান থেকে শুরু করে পার্শিয়ান গাল্ফ পর্যন্ত আপনি মরুভূমি ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবেন না। এইসব এরিয়া গুলোতে সারা বছর বৃষ্টি হয় না বললেই চলে। এইজন্য হাজার হাজার বছর ধরে এই সমস্ত এলাকা খালি পড়ে আছে। কিন্তু আবার আপনি দেখতে পাবেন যে এই মরুভূমির মধ্যেই একটা শহর গড়ে উঠেছে রিয়াদ। যেটা আরবের রাজধানী। প্রশ্ন হলো এই শহরটা চারিদিকে রয়েছে শুধু মরুভূমি এবং আশেপাশে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত এখানে কোন ওয়াটার সোর্স নেই। সমুদ্রের সাথে কানেকশন নেই। এমনকি এখানে চাষবাস হয় না। পানীয় জলের অভাব রয়েছে। কিন্তু তারপরেও কিভাবে এই রিয়াদ শহর এত এডভান্স হয়ে গেল? চলুন এবার সেই ইতিহাস বলি। আপনাদের তো জানাই আছে যে আইপিএল খেলা শুরু
6:59 হয়ে গেছে। সত্যি বলতে কিছু কিছু ম্যাচ খুবই বোরিং লাগে। তাই ইনিংসের মাঝে ম্যাচ দেখার সময় আমার মজাদার কিছু করতে পছন্দ হয়। আর ভাবতে পারছেন যে কোন জিনিসটা আমাকে এতে সাহায্য করে। এই প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম আপনাকে দিচ্ছে একটা দারুণ ওয়েলকাম বোনাস। আর আইপিএল এর সময় আরো অনেক এক্সট্রা বেনিফিটস পাওয়া যায়। এখানে আপনি অনেক মজাদার অপশন বেছে নিতে পারবেন। যেগুলো ক্রিকেট দেখাকে আরো বেশি ইন্টারেস্টিং করে তোলে। শুধুমাত্র প্রেডিকশনের জড়িয়ে একটা বোরিং ম্যাচও হয়ে যাবে বেশি থ্রিলিং। আমার পিন কমেন্টে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে রেজিস্টার করুন আর পেয়ে যান একটা দারুন ওয়েলকাম বোনাস। প্রায় 125 বছর আগে 1900 সালে। সৌদি আরবের জনসংখ্যা ছিল 25 লাখের কাছাকাছি। আর এই 25 লাখের মধ্যে প্রায় 99 শতাংশ মানুষই সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূল বরাবর বসবাস করতো। আর এই যে রিয়াদ শহর যেটা আজকের দিনে সৌদি আরবের রাজধানী সেখানে তখন বসবাস করত। মাত্র কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু পরবর্তী
7:45 30 বছরে সৌদি আরবের সাথে এমন কিছু হয়েছিল যার ফলে পপুলেশনের প্যাটার্নটা ধীরে ধীরে চেঞ্জ হতে শুরু করে। 1932 সাল নাগাদ রিয়াদের আল সৌদি ফ্যামিলি অটোম্যান এম্পায়ারের এগেন্স্টে যুদ্ধ ঘোষণা করে। যুদ্ধে যেতার পর তারা অটোম্যানদের তাড়িয়ে সৌদি আরবের কন্ট্রোল নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। আর এরপর তারাই সৌদি আরবকে নিজেদের রাজধানী ঘোষণা করে। তবে তাদের হোমটাউন রিয়াদ ছিল বলেই যে শুধুমাত্র সৌদি আরবের রাজধানী করা হয়েছিল তা কিন্তু নয়। এর পেছনেও একটা বড় উদ্দেশ্য ছিল। বা বলতে পারেন সেই সময় রিয়াদকে তাদের রাজধানী বানানো ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। কারণ সৌদি আরবের কাছে সেই সময় যে বড় বড় শহরগুলো ছিল যেমন মক্কা, মদিনা এই শহরগুলোকে রাজধানী শহর বানানো সম্ভব নয়। কারণ এই শহরগুলোতে নন মুসলিমদের ঢোকার পারমিশন নেই। আর যেকোনো
8:30 দেশের রাজধানীতে গোটা পৃথিবী থেকে বিভিন্ন দেশের দূত, মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীরা আসেন ভিজিট করার জন্য। তাই ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশন বজায় রাখার জন্য তাদেরকে এমন জায়গায় রাজধানী বানাতে হতো যেখানে সবাই অবাধে আসা যাওয়া করতে পারতো। আর এই জন্যই তারা রিয়াদকে তাদের ক্যাপিটাল হিসেবে চুজ করে। এর কয়েক বছর পরেই 1938 সালে রিয়াদের পাশেই বিপুল পরিমাণে অয়েল রিজার্ভের সন্ধান পাওয়া যায়। আর এখান থেকেই রিয়াদ সহ সম্পূর্ণ সৌদি আরবের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যায়। 1970 সালের মধ্যে পৃথিবীর মোট অয়েলের প্রায় 15% একাই সৌদি আরব সাপ্লাই করতো। এই ওয়েল ফিল্ড থেকে সৌদি আরব তখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করত। ইভেন তারা এখনো আয় করছে। এর ফলে অয়েল ফিল্ড গুলোর আশেপাশে নতুন নতুন শহর তৈরি হতে শুরু করে। সৌদি আরবের পূর্ব উপকূলে একটা শহর আছে যেটার
9:15 নাম দাম্মাম। 1920 সালের আগে হয়তো হাতে গোনা 120 জন মানুষও এই শহরে বসবাস করতো না। কিন্তু অয়েল ডিসকভার হওয়ার পরেই এই দাম্মাম শহর বর্তমানে সৌদি আরবের অয়েল ইন্ডাস্ট্রির প্রাণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দাম্মাম শহর সৌদি আরবের সবচেয়ে অ্যাডভান্স মেট্রোপলিটন সিটিগুলোর মধ্যে একটা। যেখানে প্রায় 20 লক্ষ মানুষ বসবাস করে। আর এই শহরটা দুবাইয়ের একদম কাছেই রয়েছে। দুবাই যেভাবে মাত্র 40 থেকে 50 বছরের মধ্যে একটা আন্ডার ডেভেলপড শহর থেকে অ্যাডভান্স শহরে পরিণত হয়েছে ঠিক সেই ভাবেই এই দাম্মাম শহরটাও একটা অ্যাডভান্স সিটিতে পরিণত হয়েছে। 1970 সালের পর থেকে সৌদি আরবের টাকার তেমন কমতি ছিল না। সে সময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়েলফেয়ার স্টেট হিসেবে উঠে এসেছিল সৌদি আরব। এই দেশের কোন নাগরিককে কোন রকম ট্যাক্স দিতে হতো না। ট্যাক্সের পরিমাণ ছিল জিরো পারসেন্ট। এডুকেশন,
10:01 খাবার, ইলেকট্রিসিটি, জল, পেট্রোল থাকার জন্য বাড়ি এই সবকিছুই প্রোভাইড করতো গভর্মেন্ট। সৌদি সরকারের কাছে যখন প্রচুর পরিমাণে টাকা আসছিল তখন তারা দুহাত খুলে জনগণের জন্য খরচ করতে শুরু করে। এই সময় পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল। কিন্তু যত সময় এগোতে থাকে সৌদি আরবে ইন্ডাস্ট্রি বাড়তে থাকে। আর দরকার পড়ে প্রচুর পরিমাণে ওয়ার্কার। কিন্তু সৌদির জনগণ যারা 0% ট্যাক্স দেয় এবং অলরেডি সরকার তাদের সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধা প্রোভাইড করছে। তারা কেন এই জব করতে চাইবে? তখন সৌদি আরব এই ওয়ার্কারদের গ্যাপটা পূরণ করার জন্য ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ইজিপ্ট থেকে হাজার হাজার মুসলিম ওয়ার্কারদের ভিসা দিয়ে সৌদি আরবে নিয়ে আসে। এদেরকে কনস্ট্রাকশন, ট্রান্সপোর্টেশন আর সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিতে কাজে লাগানো হয়। এরপর পরবর্তী 30 বছর ধরে সৌদি আরবের পপুলেশন এবং ইকোনমি দুটোই সমানতালে বাড়ছে। রিয়াদ
10:48 আর জেরার মত ছোট ছোট অনুন্নত শহর গুলো এখন বিরাট বিরাট মেট্রোপলিটন সিটি হয়ে উঠেছে। চারিদিকে বিরাট বিরাট ঝাঁ চকচকে বিল্ডিং রাস্তাঘাট চোখ ধাঁধানো ইনফ্রাস্ট্রাকচার। কি নেই এখানে? এই দুটো শহর মিলেই এখানে প্রায় 1.5 কোটি মানুষ বসবাস করে। ইনফ্যাক্ট সৌদি আরবের মোট পপুলেশনের প্রায় 85% মানুষই শহরে বসবাস করে। আশা করি আপনারা এতক্ষণে বুঝতে পারছেন যে সৌদি আরবে কেন এই ধরনের একটা অদ্ভুত পপুলেশন প্যাটার্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই পপুলেশন প্যাটার্নটাই বর্তমানে সৌদি আরবের জন্য একটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরবের মাঝ বরাবর এই যে ইয়েলো কালারের এরিয়াটায় যে শহরগুলো অবস্থিত এগুলো কয়েক দশক আগে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা খরচ করে সৌদি সরকার তৈরি করেছে। আর এই শহরগুলোর সবচেয়ে বড় প্রবলেম হলো জল। সৌদি আরবে যে শহরগুলো আগে থেকেই তৈরি
11:34 হয়েছিল যেমন মক্কা, মদিনা, জেডা, তাইফ এখানে কিন্তু জলের খুব একটা সমস্যা নেই। কারণ এই শহরগুলো যে এরিয়াতে অবস্থিত সেখানে যথেষ্ট পরিমাণে বৃষ্টি হয়। কিন্তু রিয়াদের মত শহর যেগুলো একেবারে মরুভূমির মাঝখানে রয়েছে সেখানে প্রথম থেকেই জলের সমস্যা ছিল। এখানে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। তাই এখানে কোন ওয়াটার সোর্সও নেই। তাই জল এখানে সবথেকে বড় সমস্যা। আর এই প্রবলেমের সলিউশন বের করার জন্যই 1980 সালে সৌদি আরবের সরকার আরামকো নামের একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দিয়েছে এই এলাকায় ভূগর্ভস্থ জল খুঁজে বের করার জন্য। লাকিলি জল পাওয়াও যায়। জল সাপ্লাই করার জন্য এখানে বড় বড় কু তৈরি করা হয়। কিন্তু যেহেতু এই এলাকায় বৃষ্টিপাত খুবই কম হয় তাই এই জলের ভান্ডারও কিন্তু পর্যাপ্ত নয়। আর পপুলেশন যেহেতু এখানে দিন দিন বাড়ছিল তাই কয়েক বছরের মধ্যেই এই কুগুলো
12:22 শুকিয়ে যেতে শুরু করে। তাই সৌদি সরকার এবার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে সমুদ্রের নোনা জল ফিল্টার করে এই শহরগুলোতে জলের চাহিদা পূরণ করছে। সমুদ্রের পাশে বড় বড় ডিস্টিলেশন প্লান্ট তৈরি করে পাইপের সাহায্যে সমুদ্র থেকে জল তুলে ফিল্টার করা হয়। আর তারপর সেই পাইপের সাহায্যেই ফিল্টার করা জল এই শহরগুলোতে সাপ্লাই করা হয়। আর এভাবেই আজকের দিনে সৌদি আরব জলের সমস্যা দূর করছে। আরো একটা জিনিস জানলে অবাক হবেন সৌদি আরবের মোট জমির মাত্র 0.5 শতাংশ চাষের যোগ্য। বাকি প্রায় 99.5 শতাংশ জমি চাষের অযোগ্য। আর এই জন্যই সৌদি আরব পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে খাবার ইমপোর্ট করে। সৌদি গভর্মেন্ট দেশের কৃষকদের প্রচুর পরিমাণে সাবসিডি দেয়। আর্টিফিশিয়াল জলের সাপ্লাই দেয় যাতে তারা চাষাবাদ করতে পারে। যাতে খাবারের জন্য সৌদি আরবকে
13:09 অন্যান্য দেশের উপর নির্ভরতা দিন দিন কম করতে হয়। কিন্তু সরকারের স্কিম ফেইল হয়ে যায়। কারণ সমুদ্রের নোনা জল সেটাকে চাষের যোগ্য বানানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে খরচ করতে হয়। যার প্রপোরশনে ফসল উৎপাদন তেমন বাড়ছিল না। তাই এই প্রজেক্টটাকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই মুহূর্তে সৌদি আরবে টাকার অভাব নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ভবিষ্যতে যখন মানুষ তেলের ব্যবহার কম করে দেবে তেলের ডিপেন্ডেন্সি কমিয়ে মানুষ যেহেতু ইভির দিকে ঝুকছে তাই ভবিষ্যতে সৌদি আরবের অয়েল ইন্ডাস্ট্রি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। তখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে শহরগুলোকে টিকিয়ে রাখাটাও সৌদি গভর্মেন্টের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়াও তেল কিন্তু অফুরন্ত নয়। তেলও একদিন শেষ হয়ে যাবে। তাই ভবিষ্যতেও যাতে সৌদি আরবের ইকোনমি সাস্টেইন করতে পারে তাই সৌদি আরবের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দেশের ইকোনমি
13:57 তেল থেকে টুরিজমের দিকে ডাইভার্সিফাই করতে শুরু করেছে। আর এটাই একজন দূরদর্শী লিডারের পরিচয়। আমাদের দেশে যেখানে পলিটিশিয়ানসরা মাত্র 500 এবং হাজার টাকা দিয়ে ভোট কেনার জন্য দেশের ইকোনমিকে খারাপ করছে সেখানে সৌদি আরবের মত দেশ যাদের কাছে অফুরন্ত তেলের ভান্ডার থাকার পরেও তারা তাদের ইকোনমিকে এখন থেকেই ডাইভার্সিফাই করতে শুরু করে দিয়েছে আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে ওমান এত ধনী কেন আর তার ঠিক প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেন এত গরীব কেন এই বিষয়ে ডিটেইলসে জানার জন্য এই ভিডিওটা দেখুন আমি ছিলাম মিশন আপনাদের সাথে দেখা হবে পরের ভিডিওতে ততদিন ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন